ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গার্মেন্টস শ্রমিক হেকমত আলী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। সম্প্রতি দুই মেয়েদের গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়া ও ছেলেকে স্কুলে ভর্তি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন হয় জন্ম নিবন্ধনের। হেকমত আলী ও তার স্ত্রীর জন্ম নিবন্ধন না থাকায় শুরুতেই তাদের জন্ম নিবন্ধন করার উদ্যোগ নিতে হয়। সে অনুযায়ী তারা জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে কাগজপত্র জমা দেন। দেড় মাস আগে ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় এসে এ কাজ সম্পন্ন করেন হেকমত আলীর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম। জন্ম নিবন্ধন নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন এমন আশায় সপ্তাহ খানেক সময় এলাকায় অবস্থান করেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন না পেয়ে ঢাকায় ফিরেন হোসনে আরা। হেকমত আলীর বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামে। সপ্তাহ দুয়েক আগে আবার তারা জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করে আবারও ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা জন্ম নিবন্ধন পাননি। শুধু হেকমত আলীর পরিবার—ই নয়; দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ওই ইউনিয়নের কেউ জন্ম নিবন্ধন পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার দাবি করেছেন, এক মাস নয়; ১৫ দিন ধরে এই সমস্যা চলছে।
নূর নবী তালুকদার গত ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম সবুজের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি সচিব গুনেন্দ্র কুমারের মাধ্যমে সাবেক চেয়ারম্যানের আইডি—পাসওয়ার্ড (জন্ম নিবন্ধনের কাজে ব্যবহৃত) নিয়ে নেন। আর সেই আইডি ব্যবহার করে চলছিল জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম। চেয়ারম্যান সেই আইডি—পাসওয়ার্ড তার এক ভাগ্নে সোহাগকে দেন। ফলে সোহাগও সেই আইডি—পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতেন। কিন্তু মাস দেড়েক সময় ধরে পাসওয়ার্ড জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে সচিব গুনেন্দ্র কুমার বদলী হলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে শামীম আহমেদ দায়িত্ব নেন। শামীম আহমেদ গুনেন্দ্র কুমারের আইডি—পাসওয়ার্ড ব্যববার করতে থাকেন। কিন্তু সেই আইডিও কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। একটি জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের আইডি সার্ভারের আলাদা আলাদাভাবে লগইন করতে হয়। ফলে চেয়ারম্যান ও সচিবের আইডি—পাসওয়ার্ডে সমস্যা থাকায় জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
একই ইউনিয়নের কাইটাকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও ভোলাগঞ্জ সার্বজনীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেপী রেমা বলেন, ‘এক মাস আগে আমার ছোট দুই বোনের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো নিবন্ধন পাইনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন তাদের কি যেন সমস্যা আছে।’
তথ্যসেবা কেন্দে্রর উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যান ও সচিবের আইডি—পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সার্ভারে জন্ম নিবন্ধনের কাজ সম্পাদন করতাম। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান বিদায়ী সচিবের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের আইডি—পাসওয়ার্ড নিয়ে তার (চেয়ারম্যান) এক ভাগ্নেকে দিয়েছেন। তবে শর্তাবলী পূরণ না করে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া জন্ম নিবন্ধনের চেষ্টা করা হলে সার্ভারে আইডি বন্ধ হতে পারে। আর এমনটি হয়েছে কি না তা বলতে পারছি না।’
সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিব শামীম আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে এখানে বদলী হয়ে এসেছি। আইডি—পাসওয়ার্ড আগের সচিবের নামে ছিল। যা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমি আবেদন করেছিলাম অনেক আগেই। কিন্তু আবেদন এপ্রোভ হয়নি। এখন হয়েছে। রোববার থেকে তা চলবে। চেয়ারম্যানের আইডিও বন্ধ ছিল।’
ইউপি চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধনের কাজ উদ্যোক্তার নয়। এটি চেয়ারম্যান ও সচিব নিজে করে। যে চেয়ারম্যান কাজটি পারে না সেই চেয়ারম্যান উদ্যোক্তাকে দায়িত্ব দেয়। এটা চেয়ারম্যানের এখতিয়ার। এতো দিন সাবেক চেয়ারম্যানের নাম (আইডি) দিয়ে আমি নিজে কাজ করেছি। এখন নতুন ইউজার আইডি ও ইউজার নেম পেয়েছি। কিন্তু এখনও পাসওয়ার্ড পাইনি। বিগত ১৫ দিন ধরে এমনটি হচ্ছে। রোববার থেকে কোনো সমস্যা থাকবে না।’
কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে ইতোমধ্যে নতুন আইডি—পাসওয়ার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’


