ধর্মপাশা প্রতিনিধি
এখনও ডাকঘর ছাড়েননি ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার। ময়মনসিংহ ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলসহ মধ্যনগর ডাকঘরের পক্ষ থেকে মৌখিক ও লিখিতভাবে মধ্যনগর ডাকঘর ছাড়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও চেয়ারম্যান বহাল তবিয়তে রয়েছেন। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদারকেও ডাকঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষও চেয়ারম্যানের মতো এখনও ডাকঘরেই বসবাস করছেন।
জানা যায়, প্রবীর বিজয় তালুকদার ২০১৬ সালে মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার ছয় মাস পরে মধ্যনগর পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার গণেশ চন্দ্র সরকারের কাছ থেকে পোস্ট মাস্টারের আবাসিক কক্ষগুলো ভাড়া নেন। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি অন্য একটি কক্ষে মধ্যনগর বিপি হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার তালুকদারও দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করছেন। মাস তিনেক আগে চেয়ারম্যান তার থাকার ঘরে একটি এসি লাগিয়েছিলেন। এ নিয়ে গত ৯ জানুয়ারি ‘ডাকঘরে এসি লাগিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বসবাস’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ১২ জানুয়ারি চেয়ারম্যান এসি খুলে নেন। এর পরদিন ময়মনসিংহ ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডাকঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে মধ্যনগর ডাকঘরের পোস্ট মাস্টারকে চিঠি দেন। মধ্যনগর ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষকে ডাকঘর ছাড়ার জন্য মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ শনিবার দুপুর পর্যন্ত ডাকঘর ছাড়েননি।
প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘আমিতো আর রাস্তায় যেতে পারবো না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিকল্প বাসা দেখে চলে যাবো।’
মধ্যনগর পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার খন্দকার শহিদুল আলম বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি ও অধ্যক্ষকে তো আর ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া যায় না। তাদেরকে মৌখিক ও লিখিতভাবে ডাকঘর থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। তাঁরা বিকল্প জায়গা খোঁজে দ্রুত ডাকঘর থেকে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন।’


