জেসমিন সাদিক
(পূর্ব প্রকাশের পর)
সকালে নানা ভাই তার চলনদার আবু ভাই সহ আসেন। ঝড়ে পাকসেনাদের বিপর্যস্ত করা সহজ হয়েছে জানান। পাকসেনা হেড যে ছিলো সেনা কি বাঙালি অফিসার। পালিয়ে গেছে। শহর এখন শান্ত। আমরা মনে করি যুদ্ধ শেষ। আমরা জিতেছি। কিন্তু না ! তারা না কি আবার আসবে আর এই জয়ের বদলা তুলবে। সারা শহর খালি হতে শুরু করেছে। বড় ভাই আজির উদ্দীন নাজির সাহেব আসেন। হাউমাউ করে কান্না করতে থাকেন। তিনি মতিউর মামার গার্ডিয়ান। ছোট বেলা থেকে সন্তান স্নেহে তাকে লালন পালন করেছেন। মতিউর মামা নাকি ২৬ তারিখের পর থেকে বাসায় যাচ্ছেন না। নানা ভাই উনাকে সান্তনা দিচ্ছেন আর নিজেও কাঁদছেন। কি হবে এরপর? আমাদের বাসা রাস্তার কাছে, দাদা আর আব্বা দু’জনের জন্যই আর্মি আসতে পারে। কাজেই সালেহরাসহ আমরা এবং নানা ভাইরা উনার কর্মচারী আবু ভাইরাস বা ইনানা ভাইদের মূলবাড়ী বড় পাড়ায় যাবো। সামান্য কিছু কাপড় চোপড় নিয়ে আমরা নানাবাড়ী চলে যাই ৩০শে মার্চ। আপা তার মাটির ব্যাংকটা কোলে করে নিয়ে যায়। আমরা আপাকে খেপাই। সব পড়ে থাকলো আর উনি উনার সম্পত্তি নিয়ে যায়। কিন্তু এই ব্যাংকের টাকা যে কত বড় কাজে লেগেছে তা মনে হলে এই পঞ্চাশ বছর পরেও মনে হয় ভাগ্যিস আপা ওটা ঐ দিন নিয়েছিলো। সে যাই হউক ঐ বাড়ীতে তখন সবাই জমায়েত হয়েছেন। আমার নানা মকব্বির আলীর ফ্যামেলীও চলে গেছেন। উনি সুনামগঞ্জে নেই কোথায় যেনো বেড়াতে গেছেন। ওখানে যাওয়ার দুই/তিনদিন পর আম্মা ও আব্বা বাসায় যান প্রয়োজনীয় জিনিস আনতে। আর তখনই শুরু হয় বিমান হামলা। সে কি শব্দ। বোমা মারছে পাকবাহিনী। প্লেন থেকে। আমাদের সবাইকে মাটিতে শুয়ে থাকতে বলা হলো। কিন্তু কি মাটিতে শুবো ? আব্বা আম্মাতো শহরে! তার স্বরে আম্মা আব্বা বলে কাঁদতে থাকি। নানাভাই ও বাজারের বাসায় গেছেন, কেউ সান্তনাও দিচ্ছেনা। সবাই আতঙ্কে কাঁপছে। না জানি শহরে কত জন মারা গেলো। দুপুর পার করে আব্বা আম্মা আসেন। না কিছুই আনতে পারেন নাই। প্রাণ নিয়ে আমাদের কাছে চলে এসেছেন। বিকালে নানা ভাই আসেন। এসেই বলেন শহরে কোন মতেই থাকা ঠিকনা। বিমান আক্রমন হয়েছে এবার শহরে ঢুকবে, এই পরাজয় পাকহানাদার সহজে মানবে না। কাজেই সুনামগঞ্জ ছাড়ো। (চলবে)


