ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে আলোচিত ব্যবসায়ী মোস্তফা আনোয়ার এনাম হত্যা মামলার বাদীর উপর আসামী পক্ষ হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাদী পক্ষ। সুনামগঞ্জ আদালত চত্ত্বরে আসামী পক্ষের লোকজন বাদীর উপর এ হামলার চেষ্টা চালায় বলে বাদী অভিযোগ তুলেছেন।
মামলার বাদী মোস্তফা জুবায়ের জানান, গত ২ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার কাচপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামী দবির মিয়া ও তার স্ত্রী লাভলী বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১২ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ আদালত চত্ত্বরে তার উপর হামলার চেষ্টা চালায় প্রতিপক্ষ। প্রায় এক মাস কারাভোগের পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পায় লাভলী বেগম। জমিনে মুক্তি পেয়ে বাদী পক্ষের উপর চড়াও হয় লাভলী বেগম ও তার স্বজনরা। বাদী ও আসামীর বসতঘর পাশাপাশি হওয়ায় প্রতিদিনই বিনা উস্কানীতে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে আসামী পক্ষ। বর্তমানে দরজা বন্ধ করে তারা অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে বলে মোস্তফা জুবায়ের জানান। নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি জিডি করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ১৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে উপজেলার নোয়ারাই এলাকার মৃত মতিন মিয়ার পুত্র ব্যবসায়ী মোস্তফা আনোয়ার এনামকে। গুরুতর আহত এনামকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় এনামের ছোট ভাই মোস্তফা জুবায়ের বাদী হয়ে দবির মিয়াকে প্রধান করে রাকিব মিয়া, কবির মিয়া, সিহাব মিয়া’ লাভলী বেগমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী মোস্তফা জুবায়ের আরো জানান, ঈদের আগের দিন ইফতার পূর্ব সময়ে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে খুন করেছে দবির মিয়া ও তার স্বজনরা। হামলার পর থেকেই আসামীরা চলে যায় আত্মগোপনে। এখনো হত্যাকারীদের অনেকেই রয়েছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে আসামীরা আরো একটি হামলার পরিকল্পনা করছে বলে তার ধারনা। এখন তিনি তার পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
আক্ষেপ করে তিনি জানান, মামলার চুড়ান্ত অভিযোগ পত্র এখনো আদালতে প্রেরণ করা হয়নি। কিন্তু গ্রেফতারকৃত আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী পক্ষের লোকজনদের রক্ত চক্ষু প্রদর্শন করছে। প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের ভয়ে নিহত মোস্তফা আনোয়ার এনামের স্ত্রী ও ৩ কন্যা সন্তান ভীত হয়ে পড়েছে। মামলার আন্যতম আসামী সিহাব মিয়া ও আল শরিফ মিশু এখনো পলাতক রয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার ও মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে কৃপাদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।


