এবার জামালগঞ্জ খাদ্য গোদামে রাতের অন্ধকারে উঠছে ধান

স্টাফ রির্পোটার, জামালগঞ্জ
‘আমার কাছে ধান দিতে আইছেন কেনে আপনেরা। আমি ধান নিমু না, যারার ক্ষমতা আছে তারার কাছে যান। তারা আপনারার ধান নিব। আপনারা সাংবাদিকরারে জানাইছেন। আমার নামে পত্রিকায় রির্পোট করাইছেন। আপনারা সাংবাদিকরার কাছে যাইন, তারার কাছে গিয়া ধান দেইনগা,তারাই আপনারার ধান নিবোনে।’
জামালগঞ্জের ওসিএলএসডি মো. সেলিম হায়দার স্থানীয় কৃষকদের সাথে এভাবেই কথা বলছেন আর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসাসহ বিভিন্ন কথা বলে ক্ষেপিয়ে তুলছেন। কৃষকদের কাছে ওসিএলএসডির বলা কথাগুলো এলাকার গণ্যমান্যদের সামনে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন স্থানীয় জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের একাধিক কৃষক।
এদিকে জামালগঞ্জ সরকারি খাদ্য গোদামে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। দিনের পরিবর্তে রাতে সরকারি খাদ্য গোদামে গোপনে ধান উঠানো হচ্ছে। এরকম রাতে ধান তোলার দৃশ্য নিজে দেখতে পেয়েছেন উপজেলা ধান চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা। তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন জামালগঞ্জের ওসিএলএসডি মো. সেলিম হায়দার।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক পূর্ব হাটির কৃষক নবী হোসেন, হান্নান মিয়া, দুলাল মিয়া, কবির  গত কয়েকদিন ধরে লাইনে থাকার পরও বৃহস্পতিবার ধান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সদরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন ও তার ভাইয়ের ভালো ধান ১০ দিন ধরে থাকার পর গোদামজাত করা হয়নি। তাদের সামনেই ব্যবসায়ী হয়রত আলী ও আব্দুর রহিমের ধান গোদামে নেয়া হয়। উত্তর কামলাবাজের কৃষক মুজিবুর রহমানের সামনে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের ময়লা ও বাজে ধান উঠালেও উনার ধান উঠান হয় নি। একইভাবে হালির হাওর পাড়ের কৃষক দিলু মিয়াকে সপ্তাহ ধরে আরো শুকিয়ে আনেন আর নেই নিচ্ছি, বলে সময় ক্ষেপণ করছেন ওই কর্মকর্তা।
কৃষক দিলু মিয়া জানান, আমরা সাধারণ কৃষক,  
আমাদের জমির ধান দিতে পারি না, অথচ আমাদের সামনে ব্যবসায়ীরা ঠিকই ধান দিচ্ছেন।
অনেক ব্যবসায়ীদের ধান দিনের আলোয় না নিয়ে সন্ধ্যার পরে খাদ্য গোদামে উঠানো হয় বলে গোদামের আশে পাশের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সাচনাবাজার ইউনিয়নের কুকড়াপশী গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, আমরা ধান দিতে পারছি না। অথচ আমাদের চোখের সামনে আমাদের গ্রাম থেকে সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী হয়রত আলী কার্ড কিনে গোদামে ধান দিচ্ছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন,‘আমি গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার পর হাটতে বের হয়েছিলাম। এসময় গোদামে ধান ঢুুকতে দেখি, আমার উপস্থিতি টের পেয়ে খাদ্য গোদামে তাৎক্ষণিক ধান উঠানোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ধান উঠানোর উদ্দেশ্য মোটেও সৎ নয়। নিশ্চয় অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে।’ তিনি আরো জানান, ওসি এলএসডির অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। তদন্তের পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে জামালগঞ্জের ওসিএলএসডি মো. সেলিম হায়দার বলেন,‘সন্ধ্যার পর রাতে গোদামে ধান ঢুকানো হয় না। দিনেই ধান ঢুকানো হয়, প্রতিদিন ইফতারীর আধঘণ্টা আগেই ধান ঢুকানো বন্ধ করে দেই। বুধবার রাতে গোদামে কোন ধান ঢুকানো হয় নি। হয়তো কেউ গোদামের বাইরে ধান উঠিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সঠিক নয়, আমি সাংবাদিকদের নিয়ে কারো কাছে কিছু বলি নি। আমার বিরুদ্ধে অহেতুক এসব মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। ’