স্টাফ রিপোর্টার
মহামারি করোনা ভাইরাসে এবারের দুর্গোৎসবের চির পরিচিত আমেজ থাকছে না। কোভিড-১৯ রোগ ছোঁয়াচে হওয়ায় সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, ভিড় এড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সব ধরনের আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করার জন্য বলা হয়েছে। এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শহরেরর শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় তালুকদার বিজু বলেন, এ বছর করোনার জন্য স্বল্প পরিসরে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, শহরের বেশীর ভাগ মÐপে এবার পূজা না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের মন্দিরে শাস্ত্রীয় বিধিবিধান অনুসরণ করে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে মহামারীর
কারণে কিছু পূজা মÐপ কমে যাবে বলে মনে করছেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটি। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২টি মÐপে পূজা হবে না বলে জানা গেছে। একটি নতুনপাড়ার বিশ^নাথ রায়ের বাসার পূজা, অন্যটি রায়পাড়া ও সোমপাড় সার্বজনীন পূজা কমিটির পূজা।
রায়পাড়া ও সোমপাড় সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি বিজন রায় বলেন, করোনার নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের মÐপে দুর্গা পূজা করা সম্ভব হবে না। রায়পাড়া ও সোমপাড়া সার্বজনীন পূজা কমিটি তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার দুর্গা পূজা হবে না। আগামী বছর ধুমধামে দুর্গা পূজা করবো।
এদিকে করোনার কারণে কাটছাঁট চলছে পূজার বাজেটেও। এতে বিপদে পড়েছেন প্রতিমা নির্মাণের কারিগরেরা। এবছর কাজের অভাবে চরম বিপদে আছেন প্রতিমা শিল্পীরা। করোনার কারণে হাতে কাজ কম। যাও কিছু কাজ রয়েছে, সেগুলোতেও অর্থ সা¯্রয়ের চেষ্টা।
জগন্নাথবাড়িতে কথা হয় মোহনগঞ্জ থেকে আসা প্রতিমা শিল্পী শ্রী জিতেন্দ্র চন্দ্র পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার আমাদের ব্যস্ততা খুবই কম। করোনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অলস সময় কাটাচ্ছি। এবার সকলেই স্বল্প পরিসরে পূজার আয়োজন করছেন। বাজেট কম। আমাদের মতো যারা প্রতিমা শিল্পী, তাদের খুবই দুঃসময় চলছে। সরকার যদি আমাদের একটু সহযোগীতা করতেন তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমান কান্তি রায় বলেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এখন পর্যন্ত আমরা একটি মÐপে পূজা মÐপে পূজা হবে না বলে জানতে পেরেছি। নতুনপাড়ার বিশ^নাথ রায়ের বাসায় এবার পূজা হবে না। তিনি বলেন, গত বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ৪১০টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার করোনার কারণে দু’একটি পূজা মÐপের সংখ্যা কমতে পারে। কিছুদিনের মধ্যে সারাজেলার তথ্য আমাদের কাছে চলে আসবে।
উল্লেখ্য, আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন, দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা। পরদিন সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।


