পাগলাবাজার প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে স্কুলগুলো। অজুহাত হিসাবে দেখানো হচ্ছে, তুলনামূলক পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস করানোর জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন তারা। তবে এ ব্যাপারে অবগত নয় উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ একটি হাওর বেষ্টিত জনপদ, তার ওপর বেশির ভাগ মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষির উপর নির্ভরশীল। গত মৌসুমের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সহায় সম্বলহীন প্রতিটি কৃষক পরিবার। এর মাঝে এতো টাকা ফরম পূরণ ফি নির্ধারণ হওয়ায় চিন্তিত উপজেলার নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া দুই সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থীদের পরিবার। একে মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবেই দেখছেন উপজেলার অনেকে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, ফসল হানি ও বিভিন্ন আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী প্রতি ‘উন্নয়ন ফি’ বাবদ ৫০/- (পঞ্চাশ টাকা) প্রমার্জন করে সর্বসাকুল্যে ১৮শ ৭০ টাকা রির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত এমন বিজ্ঞপ্তির তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছে মতো ফি নির্ধারণ করে দিচ্ছেন তারা। আর শিক্ষার্থীরা খেয়ে না খেয়ে অভাবের মাঝেও ঋণ করে এসব টাকা জমা দিয়ে ফরম পূরণ করছেন।
জানা যায়, বিশেষ ক্লাসসহ দু’একটি স্কুলে অসহনীয় পর্যায়ে ফি আদায় করা হচ্ছে। বাকী স্কুলগুলোতে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রত্যেকেই বিশেষ ক্লাসের অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন বলে জানা যায়। প্রথমে ৩ হাজার টাকা টাকা আদায় করে পরে ৪শ টাকা করে শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, পাথারিয়া। এভাবে টাকা ফেরত না দিলেও গনিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, জয়কলস উজানীগাঁও রশীদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জীবদ্বারা উচ্চ বিদ্যালয়, আলমপুর উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করছে ৩ হাজার টাকা বা তার চেয়েও বেশি। জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয় ৪ হাজার, দরগাপাশার আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় ও ইশাখপুর-শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় ৩ হাজার ৮শ টাকা করে আদায় করছে।
এদিকে পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ নিচ্ছে শিক্ষার্থী প্রতি ২হাজার ৭শ’ ৬০ টাকা।
ডুংরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোনায়েম খান জানান, তারা এবছর শুধুমাত্র বোর্ড ফি নিচ্ছেন।
তবে, উপরোক্ত ফি আদায়ের সাথে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। তারা বলছেন, ফি বাবদ শুধুমাত্র বোর্ড ফি-ই নিচ্ছেন তারা। পরীক্ষার পরে তিন মাস সময় থাকে। এ তিন মাস তাদের জন্য নিয়মিত কোনো ক্লাস থাকে না। তাদেরকে বিশেষ ক্লাস করাতে হয়। তিন মাস বিশেষ ক্লাসের জন্যই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে, এটা বাধ্যতামূলক নয়, কোনো শিক্ষার্থী যদি না চায় তাকে জোর করা হয় না। আবার যারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল তাদের থেকেও এ টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে সাদিকুল ইসলাম নামের একজন অভিভাবক বলেন, আমার দুজন ছাত্র বীরগাঁও স্কুলে পড়ে। তাদের ফরম পূরণের জন্য দরকার ৬ হাজার টাকা। গরিব মানুষ, এতো টাকা কোথায় পাবো? অনেক কষ্ট করে টাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। অনেকের কাছে টাকা ধার চেয়েছি। পাচ্ছি না।
জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল হাই জায়গীরদার রাজ বলেন, আমরা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যপারে কোনো অনুমোদন দেই নি। এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে আমি আলাপ করবো।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার পুরকায়স্থ বলেন, এটা একটা জাতীয় সমস্যা। এটিকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, আমি বিষয়টা কড়া করে দেখবো। অভিভাবকরা যেনো কোনো অতিরিক্ত টাকা না দেন। প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।


