ঐতিহ্যবাহী টুকের বাজারের উন্নয়ন নেই

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের টুকেরবাজারের যথাযথ উন্নয়ন নেই। প্রাচীন এই বাজার প্রতিষ্ঠা হয় প্রায় ৬০ বছর আগে। দেশ স্বাধীনের পর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী বাজার হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায় এই টুকেরবাজার। এই বাজার থেকে প্রতি বছর সরকার বড় অংকের রাজস্ব পেয়ে আসছে। তাই বাজার উন্নয়নের দাবি ব্যবসায়ীদের।
দুই গলির এই বাজারে পরিকল্পিত দোকান ঘর নেই। পরিচ্ছন্নতার অভাব, রাস্তা-ঘাটের সংস্কার নেই, পর্যাপ্ত নলকূপ নেই, নেই পাবলিক টয়লেট। এছাড়াও নদীরপাড় থেকে বাজারে মালামাল উঠানামার সিঁড়ি নেই, পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই।
জানা যায়, বাজারে রয়েছে অন্তত: একশত দোকানঘর। বাজারের একপাশে আছে মসজিদ ও মাদ্রাসা। বাজারের ভেতরে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি। আছে চাউলের বাজার, গরুর বাজার, মাছের ও সবজির বাজার। বাজারের গলিজুড়ে রয়েছে খুচরা ও পাইকারী ভূষিমালের দোকান, ফার্মেসী, রড, সিমেন্ট ও টিনের দোকান, চায়ের স্টল, জুতার দোকান, কামারের দোকান, স্বর্ণকারের দোকান, কাপড়ের দোকানসহ নানা রকমের দোকানপাট। অস্থায়ীভাবে রয়েছে নানা জাতের ফলের দোকান। যোগাযোগের মেইন সড়ক থেকে বাজারে প্রবেশের শুরুতে রয়েছে ত্রিমুখি রাস্তা বা টুকেরবাজার পয়েন্ট। প্রতিদিন বাজার বসলেও সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার বাজার বার হিসাবে মালামাল বেশি আসে এবং হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই বাজার প্রতিবছর সদর উপজেলা থেকে ইজারা দেয়া হয় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায়। বর্তমানে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও বাজারের উন্নয়ন হয়নি। তারা বাজারের যথাযথ উন্নয়নের দাবি জানান।
ফার্মেসী ব্যবসায়ী চিকিৎসক ইকবাল হোসেন বলেন, বাজারে প্রতিদিন শত শত মানুষের আগমন ঘটে। আমরা ব্যবসায়ীরা প্রশ্রাব পায়খানার জন্য ব্যবহার করতে হয় মসজিদ বা মাদ্রাসার টয়লেট। এটা আমাদেরও খারাপ লাগে। আমাদের বাজারে নানা সমস্যা রয়েছে। এসবের সমাধান হলে বাজারে লোক সমাগম বাড়বে।
ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, বাজারে মালামাল উঠানামার নদীরপাড়ে সিঁড়ি নেই, পর্যাপ্ত নলকূপ নেই। পরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট নেই। বাজারের উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের উন্নয়ন নেই। কিন্তু সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছে। বাজারের যথাযথ উন্নয়নের দাবি আমাদের।