টাকা কেজির ওএমএস’র চালের দাম হঠাৎ করে ৩০ টাকা হয়ে পড়া, একইসাথে বাজারে চালের লাগামহীন দরবৃদ্ধির কারণে নি¤œ আয়ের লোকজনের জীবন চরমে উঠেছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রবিবার জেলার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে চাল কিনতে লাইনে দাঁড়ানো নি¤œ আয়ের মানুষগুলো যখন জানতে পারেন ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে হবে, তখন অনেকেই চাল না কিনে চলে গেছেন। কারণ ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কেনার মতো টাকা তাদের পকেটে ছিল না। অন্যদিকে বাজারে চালের দাম হঠাৎ করে আরেক দফা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন প্রতি কেজি চালের মূল্য ন্যুনতম ৫০ টাকায় উঠে গেছে বলে জানা যায়। এইসব কারণে জেলার গরিব মানুষের মধ্যে অসহায় অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলার ১১০ টি পয়েন্টে প্রতিদিন প্রতিদিন ১ টন চাল জনপ্রতি ৫ কেজি করে ২০০ জনের নিকট ১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হতো। হাওরের ফসল বিপর্যয়ের পর থেকেই সরকার এই স্বল্পমূল্যের খাদ্য সহায়তা শুরু করায় এতদিন যাবৎ হাওর অঞ্চলে তীব্র অভাবের প্রকাশ দেখা যায় নি। হঠাৎ করে ওএমএস’র চালের দাম বৃদ্ধি ও বাজারের তেজিভাবের কারণে এই অভাববোধ এখন তীব্র হতে থাকবে। সরকারকে তাই দ্রুত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে।
১৫ টাকা কেজির চাল হঠাৎ করে কেন ৩০ টাকা করা হলো তার কোন সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায় নি। আমরা জানি, সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে খাদ্য মজুদ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বিশাল অংকের ভর্তুকী দিয়ে এই চাল গরিব মানুষের মাঝে বিক্রির ব্যবস্থা করে একটি ভয়ানক দুর্ভিক্ষা ব্যবস্থাকে সফলভাবে মোকাবেলা করতে সমর্থ হয়েছে সরকার। এরূপ অবস্থায় কেন হঠাৎ করে চালের দাম দ্বিগুন করা হলো তার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। একটি কঠিন অবস্থা মোকাবিলা করতে খাদ্য খাতে সরকারের ভর্তুকী অন্তত সামনের ফসলি মৌসুম পর্যন্ত জুগিয়ে যেতে হবেই। প্রয়োজনে সরকারের অন্যান্য খাতে এজন্য ব্যয় সংকোচন নীতি অবলম্বন করা যেতে পারে। কিন্তু সেসব না করে গরিবের চালের উপর কোপ পড়ায় আমরা হতভম্ব হয়েছি। এ বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার দৃশ্যত ব্যর্থ হচ্ছে। কতিপয় মিলার কারসাজির মাধ্যমে এই দরবৃদ্ধি করলেও তাদের অপতৎপরতা দমন করা যায় নি। ফলে চালের বাজার ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। সরকারকে চালের মজুদ বাড়িয়ে এই অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি মজুদদারি বিষয়ে আইনের যেসব বিধানাবলী রয়েছে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে হবে। দেশের বাজারকে কখনও গুটি কয়েক ব্যক্তির সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি করে রাখা যায় না। আমরা আশা করছি সরকার চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সবগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ওএমএস’র চালের দামের পূর্ব হার কেজি প্রতি ১৫ টাকায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারকে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। ওএমএস ব্যবস্থা চালু না থাকলে লাগামহীন চালের বাজার আরও লাগামছাড়া হয়ে যাবে।
- অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ ফুটবল-৩ খেয়ে ভারতের জালে পাল্টা ৪ বাংলাদেশের
- রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে মদনপুরে মানববন্ধন

