স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার হাসপাতালে ওষুধ দেওয়া নিয়ে ডাক্তার ও এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডাক্তারদের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না পেলে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, রোববার সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাজেরগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম শারীরিকভাবে অসুস্থ্য অনুভব করলে হাসপাতালে গিয়ে প্রেসার চেক (উচ্চ রক্ত চাপ পরীক্ষা) করান। পরে তিনি কর্তব্যরত ডাক্তার ইমরান আহমেদের কাছে ওষুধের জন্য যান। ইমরান আহমেদ তাঁকে কিছু ওষুধ দেবার পর তিনি আরও কিছু ওষুধ চান। এসময় ইমরান আহমেদ এই ওষুধ শেষ হলে এসে নিয়ে যাবার কথা বলেন। এই নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ও ডাক্তার ইমরান আহমেদ’এর কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরে ডাক্তার ইমরান আহমেদ থানায় জিডিও করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বললেন, সকাল ১০ টায় দোয়ারাবাজার হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাক্তার ইমরান আহমেদের দেখা পাই। আমার অসুস্থ্যতার কথা জানিয়ে তাঁকে ওষুধ দেবার অনুরোধ জানাই। তিনি পাঁচটি প্যারাসিটামল দেন আমাকে। আমি তখন আরও কিছু ওষুধ দেবার জন্য অনুরোধ করি। তিনি জানালেন, পাঁচটার বেশি ওষুধ দেওয়া যাবে না। এগুলো শেষ হলে এসে নেবেন। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। শেষে তিনি আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। কলম দিয়ে হাতে আঘাত করেন। এসময় আমার শরীরে মুজিব কোর্ট ও মুক্তিযোদ্ধার ব্যাজও লাগানো ছিল।
ডা. ইমরান আহমেদ বললেন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চিনতে পারি নি। তাঁকে ৫ দিনের প্যারাসিটামল ও এন্টাসিড দেবার পর তিনি আরও ওষুধ চাইলে আমি এগুলো শেষ হবার পর নেবার জন্য অনুরোধ করি। এরপর তিনি গালিগালাজ শুরু করেন। আমার শরীরেও তিনি ধাক্কা দেন। আমাকে মারতে উদ্যোত হন। বিষয়টি উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে জানানোর পর তিনি আমাকে এই বিষয়ে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন।
এঘটনায় দোয়ারাবাজার সদর হাসপাতালের ডাক্তার কর্মচারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সফল আলী জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে এই ঘটনায় মিমাংসা না হলে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচী দেবেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকা জানান, ঘটনা শুনে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় দুই পক্ষকেই তাঁর অফিসে ডেকেছেন তিনি।


