কঠোর লকডাউন কষ্ট বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষদের

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
আসকর আলী (৫৫)। ৩ মেয়ে ও ২ শিশু ছেলেসহ ৭ জনের মাঝারিমানের সংসার। ভাড়ায় ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে কোনো রকমে জীবন যাপন করেন তিনি। গত সপ্তাহ থেকে শুনছিলেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউন আসতে পারে। এমন সংবাদে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সংসারের যাবতীয় খরচ, স্থানীয় একটি এনজিও’র সাপ্তাহিক কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করবেন এ দুশ্চিন্তা কোনোভাবেই কাটছিলো না তাঁর। গতকাল সরকারের দেয়া লকডাউনের প্রথম দিন অবসরে কেটেছে তাঁর। ভ্যান নিয়ে বাইরে বের হলেও কোনো উপার্জন করতে পারেননি তিনি। উপার্জনহীন হয়ে প্রথমদিন কোনো রকমে চলতে পারলেও পরদিন থেকে রোজগার করেই ঘরে ফিরতে হবে। না হলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে তাঁকে। এতো শুধু একজন আসকর আলীর গল্প। এমন অসংখ্য দিনমজুর, খেটে খাওয়া, রিকশা চালক, চা বিক্রেতা আসকর আলীদের গল্প আছে আমাদের সমাজে।
লকডাউনের প্রথম দিন (বৃহস্পতিবার) দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার ও আক্তাপাড়া (মিনাবাজার) ঘুরে ক্ষদ্র্র ব্যবসায়ীদের দোকানপাট খোলা, রিকশা- ভ্যান চলতে খুব একটা চোখে পড়েনি। খোঁজ করে দু’চার জনের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, লকডাউন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যেই ছিলেন তারা। লকডাউনের প্রথম দিনে তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তিই দোকানপাট খোলেন নি, বাইরে বের হননি রিকশা কিংবা ভ্যান নিয়ে। একটা শঙ্কা তাঁদের মনে কাজ করছে। আর যাঁরা উপার্জনের আশায় বের হয়েছিলে তাঁরা তেমন উপার্জন করতে পারেন নি। এভাবে চলতে থাকলে এক দু’দিন হয়তো কোনো রকমে কাটাতে পারবেন কিন্তু একসপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ বিশাল এ জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাটানো সম্ভব নয়। দেশের অবস্থা ভালো করতেই সরকারের এমন পদক্ষেপ ভালো জানিয়ে তাঁরা জানান, সরকার যতই পদক্ষেপ নিক না কেনো তাঁদের মতো খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষদের কথা যেনো আলাদা করে মাথায় রাখেন। তাহলে লকডাউন মানানো সহজ হবে। অন্ততপক্ষে কিছুদিনের জন্য হলেও যেনো খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়।
পশ্চিম পাগলা এলাকার রিকশা চালক আবদুল আউয়াল (৫০) জানান, লকডাউন দিয়েছেন আমরা মানতে পারতাম, যদি আমাদের ঘরে খাদ্য থাকতো। খাদ্য নাই, পেটে ক্ষুধা। ক্ষুধা নিয়ে কেউ ঘরে থাকতে পারে না। লকডাউন আসলেই আমাদের আর কষ্টের সীমা থাকে না।
দিনমজুর চেরাগ আলী (৪৫) বললেন, লকডাউনে সকল মানুষের হাত খালি থাকে। কেউ কাজ করাতে চান না। মানুষ কাজ না করলে আমার মতো দিনমজুররা বেকার হয়ে পড়েন। আমাদের কষ্ট বেড়ে যায়। সরকার আর বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে আমরা সাঁতারের মধ্যে জিড়িয়ে নেওয়ার একটু ভরসা পাই।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষদের কথা আমাদের মাথায় আছে। আনুমানিক আগামী পরশুদিন (আগামীকাল) থেকে আমরা কিছু খাদ্য সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবো। লকডাউনের কারণে যাঁরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেরকম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা এ কার্যক্রম শুরু করবো। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্যরাও পাবেন আশা করছি।