কতদিন এই অবস্থা থাকবে তা কেউ বলতে পারছে না: প্রধানমন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পৃথিবীর প্রায় ২০৯টি দেশ আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিনিয়ত মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। গত ডিসেম্বর থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন থেকেই আমরা সতর্ক ছিলাম। যখনি আমাদের দেশে দেখা দেয় তখননি আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
তিনি বলেন, কতদিন এই অবস্থা থাকবে তা কেউ বলতে পারছে না। সারা বিশ্বে কত শক্তিশালী দেশ, কত অস্ত্র কোনো কিছুই কাজে লাগলো না। একটা ভাইরাস চোখে দেখা যায় না। তার কারণে আজ সারা বিশ্ব স্থবির, সারা বিশ্বের মানুষ আজ ঘরে বন্দি। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশন সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শনিবার বিকাল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে নিয়ম রক্ষার এই সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেছি। কিন্তু স্বাস্থ্যে যে এমন ঝড় বয়ে যাবে তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। পূর্বে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করেছি। সব রকম ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। বিনা পয়সায় চিকিৎসা হচ্ছে। প্রত্যেকটি বন্দরে টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মানুষকে সচেতন করা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাদ্যে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।
এ অধিবেশন ছিল একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন। সংসদের প্রথা ও সংবিধান অনুযায়ী অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবস গত ৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর ২৭ কার্যদিবসে সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার ও বিরোধীদলের ২২৭ জন ৫৪ ঘণ্টা ২৪ মিনিট আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে আজ ১৮ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়।
এছাড়া প্রথম অধিবেশন গত ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আজ ১৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৮কার্যদিবস চলে। এ অধিবেশনে ৭ টি সরকারি বিল পাস করা হয়। ৭১ বিধিতে ২৩৫টি নোটিশের মধ্যে ১২টি গৃহিত ও ৮টির ওপর আলোচনা হয়। ৭১ক বিধিতে ২ মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ৬০টি।
এছাড়া এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দানের জন্য ১২৪টি প্রশ্নের মধ্যে ৫৫টির তিনি উত্তর দেন। আর মন্ত্রীদের জন্য ২ হাজার ৯০২টি প্রশ্নের মধ্যে ২ হাজার ৩৭৬ টির উত্তর দেয়া হয়।
স্পিকার তার সমাপনি ভাষণে মহান ভাষার মাসে ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মহান শহীদদের ত্যাগে ভাস্বর একুশ বাংলা সংস্কৃতির নতুন চেতনা সঞ্চারকারী ভুমিকায় অবতীর্ন বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন ÿেত্রে একুশের চেতনা এক অপরিমেয় শক্তি, প্রাণের দীপ্ত জাগরণ।
তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্ব কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিশ্বে দেশের মর্যাদা ও সুনাম অনেক বৃদ্ধি করেছে। তিনি অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্ব ক্রিকেট বিজয়ী ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, ‘ ২০২০ সাল আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ববহ। এছর আমরা সমগ্র জাতি আননদমুখর পরিবেশে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী মুজিব বর্ষ পালন করছি। এ মুজিব বর্ষ ২০২০ উদযাপন নতুন প্রজন্মকে জাতির পিতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে অনুপ্রানিত করবে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে ভবিষ্যৎ তরুনদেরকে উৎসাহিত করবে। ’ তিনি মুজিব বর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, এ উপলÿে আগামীূ ১৯ মার্চ জাতীয় সংসদের দÿিণ প্লাজায় শিশু মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসবে। এ অধিবেশনে বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রন জানানো হবে।
স্পিকার এই অধিবেশনে সরকার ও বিরোধীদল নির্বিশেষে সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি এ জাতীয় সংসদকে আরো অর্থবহ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ÿমতাকে জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করে বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেকে গণতন্ত্রের এক অনুকরণীয় মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করারও আহবান জানান।
স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা করায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা, মন্ত্রী সভার সদস্যবৃন্দ, চিফ হুইপসহ হুইপগণ, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, সকল সংসদ সদস্য, ডেপুটি স্পিকার ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, মিডিয়া কর্মীসহ সংশিøষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সমাপনী ভাষণের পর স্পিকার একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করেন।