সু.খবর ডেস্ক
সম্ভবত এটাই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আসল চরিত্র। মাত্র ক’দিন আগে বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে এখন আবার বলছে আসবে না! অথচ এর মধ্যে কোনো কিছুই ঘটেনি। বলা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই পুরোপুরি ইউটার্ন নিল পিসিবি। গত পরশু পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান জানান, সফরটি স্থগিত করেছেন তারা। কারণ হিসেবে বলেছেন সেই পুরনো কথা, ‘টানা তিনবার আমরা সফরে যেতে পারি না।’ এর সঙ্গে একটি মিথ্যাও বলেছেন তিনি, দুই বোর্ড নাকি সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিছুই জানে না। তবে এবার সম্ভবত এত সহজে ছাড় দেবে না বিসিবি। এবার তারা কঠোর অবস্থানে।
২ এপ্রিল কলম্বোয় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভা শেষে পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছিলেন, জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এরই মধ্যে সফরের খসড়া সূচিও তৈরি করে ফেলেছে বিসিবি। সে অনুযায়ী ৯ জুলাই বাংলাদেশে আসার কথা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। এর মধ্যেই ক্রিকইনফোকে গত পরশু শাহরিয়ার খান জানান সফর স্থগিতের বিষয়টি। কারণ হিসেবে পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটেছেন তিনি, ‘কোনো বিনিময় ছাড়া পাকিস্তান ক্রিকেট দল টানা দুই বার বাংলাদেশ সফর করেছে। আমরা মনে করি, টানা তৃতীয়বার আমরা বাংলাদেশ সফরে যেতে পারি না। তাই আমরা সফরের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছি। আগামী বছর কোনো সময় আমরা সফরে যেতে পারি।’ মজার বিষয় হলো, এই কারণ তো ক’দিন আগেও দেখিয়েছিল পিসিবি। শ্রীলংকার বৈঠকে বিসিবি তাদের হাইপারফরম্যান্স দল পাকিস্তানে পাঠাতে রাজি হওয়ায় পিসিবি সফরে আসতে সম্মত হয়। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের বাসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামালার পর জিম্বাবুয়ে ছাড়া কোনো দেশই পাকিস্তান সফরে যায়নি।
শাহরিয়ার খান আবার বলেছেন, দুই বোর্ড নাকি সমঝোতার মাধ্যমে সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ গতকাল বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানায়নি পিসিবি। সফর স্থগিতের খবর তারা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছেন। বিসিবির দাবি, আইসিসিরি এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) অনুযায়ী এটি বাংলাদেশেরই সিরিজ। পিসিবির সফর স্থগিতের সিদ্ধান্তে তারা বেশ অবাক বলে জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, ‘আমরা সত্যিই বিস্মিত। এক মাস আগেও আমরা জানতাম তারা সফরে আসছে। ২০১৫ সালের পর আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল সে অনুযায়ী পরের দুটি সিরিজ তারা আমাদের এখানে খেলবে। তখন একটা আর্থিক ইস্যু ছিল। বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। তারা বলেছিল, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকাতেই খেলবে তারা।’
রাতারাতি এমন অযৌক্তিভাবে পাকিস্তানের ঘুরে যাওয়ার কারণটা অবশ্য জানিয়েছেন জালাল ইউনুস, ‘দুবাইয়ে আইসিসির সভায় পিসিবি চেয়ারম্যান ও আমাদের সভাপতির মধ্যে সফর নিয়ে কোনো এক সময় আলোচনা হয়েছে। সেখানে পিসিবি চেয়ারম্যান জানান, তারা চাচ্ছে বাংলাদেশ দল পাকিস্তানে গিয়ে কমপক্ষে দুটি টি২০ খেলুক। বাকি ম্যাচগুলো তারা এখানে খেলবে। কিন্তু আমরা চাচ্ছি না সেখানে গিয়ে খেলতে। এফটিপি অনুযায়ী এটা বাংলাদেশের সিরিজ। সম্পূর্ণ সিরিজ এখানে খেলতে হবে।’ এফটিপি অনুযায়ী বাংলাদেশের সিরিজ হলে পাকিস্তান সফরে না এলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে বিসিবির। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে সফর স্থগিত করার বিষয়টি জানালে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ভাবা হবে বলেও জানিয়েছেন জালাল ইউনুস, ‘তারা আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানায়নি। জানানোর পর ভাবা হবে কী করা যায়। আমরা আমাদের সূচিতেই থাকব। তাদের কাছে আমাদের প্রস্তাবিত সূচিও পাঠাব।’
পিসিবির এমন কথা দিয়ে কথা না রাখার ইতিহাস নতুন নয়। তারা এসব টালবাহানা করে কিছু সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য। ২০১৫ সালে সফরের আগেও বেঁকে বসেছিল তারা। তখন নিজেদের হোম সিরিজ দাবি করে বিসিবির কাছ থেকে তিন লাখ ২৫ হাজার ডলার নিয়েছিল তারা। এবারও টাকা-পয়সার জন্য এমনটি করছে পিসিবি! তবে জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, এবার আর সেসবের সুযোগ নেই, ‘এখানে কিন্তু টাকা-পয়সার ব্যাপার নয়। আর্থিক বিষয় গতবারই মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার বলার কোনো সুযোগ নেই।’ তাহলে কেন এমন করছে পিসিবি? জানা গেছে, আইসিসির সভায় নাকি পিসিবির চেয়ারম্যানকে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাসলে জাইলস আশ্বাস দিয়েছেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাকি এখন ভালো। আগামী সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশের তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি দল গঠন করে পাকিস্তানে পাঠানো হবে দুটি টি২০ খেলার জন্য। তার এমন আশ্বাসেই নাকি বাংলাদেশ সফর নিয়ে ইউটার্ন নিয়েছে পিসিবি। তবে বিসিবি এবার শক্ত অবস্থানে। কোনোভাবেই তারা পিসিবিকে ছাড় দেবে না।


