আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরের বিভিন্ন বোরো ফসলি হাওরের পানি এখনো কমছে না। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকেই পুরোদমে শুরু হয় বোর ধান রোপনের কাজ কিন্তু চলতি বছর হাওরে পানি না কমায় ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে এসেও কৃষক জমিতে ধান রোপন করতে পারছেন না। জানুয়ারি মাসের প্রথম দিক থেকে রোপন শুরু হবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না সহসাই। দুশ্চিন্তায় রয়েছে তাহিরপুরের ৩৫ হাজার কৃষক। গেল বছর এ সময়ে ধুম পড়েছে
হাওরে হাওরে বোর রোপন। এবার কোন হাওরে এখনো চোখে পড়ছেনা বোর ধান রোপন।
হাওরে হাওরে পানি না কমার এ চিত্র দেখে হাওর পারের হাজার হাজার কৃষক উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
গেল বছর অসময়ে অকাল বন্যায় হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসল হারিয়ে কৃষক অনেকটা সর্বশান্ত। চলতি বছর বোরো ধান রোপন মৌসুমে হাওরে পানি না কমায় আবারো নতুন করে কৃষকদের মনে উৎকন্ঠা দেখা দিচ্ছে। কষ্ট করে বীজতলা তৈরি করলেও জমি রোপন করতে পারবেন কিনা সেই ভাবনায় রয়েছেন কৃষকরা।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শনি, মাটিয়ান, আঙ্গারউলি, ফানা, কেচুরিয়া, মহালিয়া, শমসা হাওর সহ ছোট বড় ২৩ টি বোরো ফসলি হাওর রয়েছে । ২৩ টি ছোট বড় হাওরে বোর ফসলি জমি রয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর। ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৪০ হাজারের অধিক কৃষক বোর ধান চাষাবাদ করেন।
গত বছর হাওরে ঠিকাদার, পিআইসি ও পাউবো কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে অসময়ে বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় উপজেলার সবক’টি বোরো ফসলি হাওরের ধান।
শনি হাওর পার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মারালা গ্রামের কৃষক মিয়া হোসেন বলেন, ‘পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময়ে শনির হাওরের অর্ধেক জমি রোপন শেষ হয়ে যায়। এবার হাওরে পানি না কমায় কৃষক এখনো জমি রোপন শুরু করতে পারছেন না।’
মাটিয়ান হাওর পাড় বড়দল গ্রামের কৃষক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাওরের পানি না কমলে পরবর্তীতে আর জমি রোপন করেও কোন লাভ হবেন।’
সরেজমিন শনিহাওর, মাটিয়ান হাওর, বলদা হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সব হাওরে একই অবস্থা। ধীর গতিতে কমছে হাওরের পানি। এভাবে ধীর গতিতে পানি কমলে হাওরের বোর ধান রোপন শেষ করতে অনেক দিন লেগে যাবে। যথা সময়ে জমি রোপন না করতে পারলে অসময়ে জমি রোপন করে কোন লাভ নেই বলে এলাকার কৃষকদের অভিমত।
মাটিয়ান হাওরপার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, ‘হাওরের পানি এখনো না কমায় কৃষকদের মনে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।’ জমি না করতে পারলে আগামী দিন কি খাবেন এ নিয়ে কৃষকদের দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই বলেও তিনি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুছ ছালাম বলেন, ‘হাওরের পানি কমছে না, কমলেও তা খুব ধীর গতিতে কমছে। চলতি বছর ২০ দিন পিছিয়ে পড়বে বোর ধান রোপন মৌসুম।’


