স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সংগঠক ও সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহমান মিজান’র ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবি’র আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারে স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিপিবি’র সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার।
বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমেদ, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দুর্যোধন দাস দুর্জয়, বর্তমান কমিটির সভাপতি আসাদ মনি, সাধারণ সম্পাদক নিমাই সরকার প্রমুখ।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, রহমান মিজান এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে পুলিশের দ্বারা মারাত্মকভাবে নির্যাতিত ও গ্রেফতার হন। বামপন্থি প্রগতিশীল ছাত্রনেতা হিসেবে বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য আরও জোরদার করার ব্যাপারে তিনি নিবেদিত ছিলেন।
সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বামপন্থি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের জোট “গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য” গড়ে তোলার ব্যাপারে রহমান মিজান বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মধুর ক্যান্টিনের রাজনৈতিক পরিবেশে সকলের কাছে একজন ত্যাগী, বিনয়ী ও মার্জিত ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মঈন হোসেন রাজু সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হলে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনে তিনি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। এই সময়কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত সূর্যাস্ত আইন, ছাত্রী নির্যাতনসহ সবগুলো আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, কমরেড রহমান মিজান ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৫ সালে কমরেড রহমান মিজান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন এবং পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ২০০৮ ও ২০১২ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি’র সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
কমরেড রহমান মিজান ১৯৬৫ সালের ১ জুলাই জেলার দিরাই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ফজলুর রহমান, মা পিয়ারা বেগম। ৬ ভাই ও ৫ বোনের সংসারে রহমান মিজান ছিলেন সবার বড়। দিরাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রহমান মিজানের লেখাপড়ার শুরু করেন। ১৯৮১ সালে দিরাই হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথমে তিনি গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে দিরাই কলেজে ভর্তি হন এবং ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
১৯৮৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন সিলেটের মদন মোহন কলেজে। সেখান থেকে ডিগ্রি পাস করে চলে যান ঢাকায়। ঢাকাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স এ ভর্তি হন। কিন্তু ছাত্র রাজনীতিতে তীব্রভাবে জড়িয়ে পড়ায় মাস্টার্স পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি তাঁর।


