কমেছে পশু জবাইয়ের যন্ত্রপাতির চাহিদা

পুলক রাজ
কোরবানী উপলক্ষে কামারশালায় চলছে শেষ সময়ের ব্যস্ততা। পুরোনো ছুরি ও দা শান দিতে কামারের দোকানগুলোতেও ভিড় করছেন কিছু মানুষ। পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত দা, ছুরি, চাপাতি, বটি ইত্যাদি। কামারশালা, ফুটপাত ও পৌর শহরের বাজারের কিছু দোকানে বিক্রি করা হয় কোরবানির কাজে ব্যবহৃত এসব যন্ত্রপাতি।
জানা যায়, প্রতিবছরই পৌর শহরের পশ্চিম বাজার মধ্যবাজারে কোরবানির পশু জবাই করার বিভিন্ন ধরনের দা, ছুরি, চাপাতি তৈরীর জন্য কামাররা অনেকটাই ব্যস্ত সময় পাড় করেন। কিন্তু প্রতিবারের মতো কামারশালা এবার সরব হয়ে ওঠেনি। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও এই ঈদে কিছু বাড়তি আয়ের আশায় থাকেন কামারেরা। করোনার কারণে এবার দা, চাপাতি ও ছুরির চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে এগুলো তৈরির ফরমাশও অন্যবারের মতো আসছে না। পশু জবাইয়ের জন্য ব্লেডের ছুরি ৬০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, ছুরি ১০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, চাপতি ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা, হাড় চাইনিজ কুড়াল ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা, দা ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বুজালী ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।
পশ্চিম বাজার কামার জগদীশ দাশ বলেন, এ বছর পশু জবাইয়ের যন্ত্রপাতি বিক্রি কম হচ্ছে। অন্য বছর অর্ডার একটার পর একটা থাকতো। ছুরি, দা, কোরাল, চাপাতি এসব যন্ত্রপাতি তৈরী করতে দিন রাত কাজ করতে হতো। কিন্তু এই কোরবানী ঈদে একদম কম বিক্রি হচ্ছে।
পশ্চিম বাজার কামার অনন্ত দে বলেন, মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আগের মতো কেউ কিনতে চায় না। তারপরও কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য দা, রোল, চাপাতি, ছুরি তৈরী করে রাখছি। ঈদের আগের দিনের আসায়, যদি একটু বিক্রি হয়।
মধ্যবাজারের কর্মকার ব্যবসায়ী উত্তম দে বলেন, আমার দোকানের নাম আলয় আয়রণ স্টোর। আমার দোকানে কোরবানি পশু জবাইয়ের জন্য সব ধরনের যন্ত্রপাতি আছে। তবে বিক্রি হচ্ছে কম। করোনা ভাইরাসের জন্য লকডাউন দেওয়া হয়েছিলো এবং ২৩ তারিখ থেকে আবার লকডাউন দেওয়া হবে। মানুষ বর্তমান সময়ে প্রচুর পরিমানে আর্থিক সংকটে আছে।
পশ্চিম বাজার কামার ইরেন্দ্র দে বলেন, কোরবানি ঈদের মৌসুমে আমাদের মতো সব কামাররা খুব বেশী ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এবছর এরকম ব্যস্ততা নেই।