কম খরচে অনেকে করেছেন স্থানীয় জাতের ধান

স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গুয়ার পাড়ের নিশ্চিন্তপুরের কৃষক আবুল কাশেম ২৫ কেয়ার জমিতে স্থানীয় জাতের শাইল ধান চাষাবাদ করে ২৫০ মণ ধান পেয়েছেন।
কৃষক আবুল কাশেম বললেন, ‘রোয়া দেবার সময় (রোপণের সময়) ক্ষেত পরিস্কার করছি। এরপরে সারও লাগছে না, বন বাঁচন লাগছে না, কীটনাশকও দিছি না (দেই নি)। সবার পরে লাগাইছি (লাগিয়েছি), সবার আগে কাটছি (কেটেছি)। ২৫ কিয়ারে (কেয়ার) ২৫০ মণ ধান পাইছি। এই ধানের দামও ভালো।
সুস্বাদু স্থানীয় জাতের ধান কেবল কৃষক আবুল কাশেম নয় জেলার অনেক কৃষকই করেছেন।
কৃষকরা জানালেন, উফসী ও হাইব্রিড জাতের ধান ভালো ফলন দিলেও এর বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাবও রয়েছে। এবার উফসী জাতের ব্রি ২৮, ব্রি ২৯, ব্রি ৮৯ ধানে ব্লাস্টের সংক্রমণ এর উদাহরণ। এই পরিস্থিতিতে দেশের কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাওরের গভীর পানির ধানের জাতগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য ঠিক রেখে অধিক ফলনশীল করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
একাধিক কৃষক বললেন, হাওরাঞ্চলে একসময় প্রায় ২২৮ প্রজাতির বোরোধান চাষ হতো। এ সকল প্রজাতির মধ্যে ছিলো টেপি, বোরো, রাতা, শাইল, লাখাইয়া, মুরালি, চেংড়ি, কালিজিরা, সমুদ্রফেনা, হাসিকলমি, কাশিয়াবিন্নি, দুধবাকি, দুধসাগর, লাটলী, মারতি, তুলশীমালা, আখনিশাইল, গাছমালা, খৈয়াবোরো, দেউড়ি, কন্যাশাইল, বিচিবোরো, লোলাটেপী, পশুশাইল, হাসেরডিম, গুয়ারশাইল, বেতি, ময়নাশাইল, গদালাকি, বিরইন, খিলই, ছিরমইন, আগুনি, গুলটিহি, ল্যাটা, জগলীবোরো প্রভৃতি।
বানের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা দেশী ধান ছিল হাওরের কৃষকের ভরসা ও শক্তির প্রতীক। বেশি ফলনের কথা বলে সরকারি-বেসরকারিভাবে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ধান চাষ করা হচ্ছে। এসব ধানে ফলন বেশি হলেও দেশী ধানের তুলনায় উফশী ধান পাকে দেরিতে। ফলে আগাম বন্যায় প্রতিবছর এই ধানের ক্ষতি হয়। সে তুলনায় এখন অল্প জমিতে কৃষকরা দেশী ধান রোপণ করে লাভবান হচ্ছেন। খরচ ছাড়াই চাষকৃত দেশী ধান পানি আসার আগেই কেটে ফেলা যায়। হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু কৃষক এবারও দেশী ধান চাষ করছে। চলতি মৌসুমে এসব ধান ইতোমধ্যে কেটে গোলায় তুলেছেন কৃষক। ফলনও হয়েছে ভালো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, উচ্চ ফলনশীল ধানের মধ্যে ব্রি-৮৮, ৮৯, ৯৬, বঙ্গবন্ধু ১০০, বিনা ২৪, হাইব্রিডের মধ্যে জনকরাজ, হীরা ও রূপালী এবং স্থানীয় জাতের মধ্যে রাতা, লালডিঙ্গি ও শাইল ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় উচ্চ ফলনশীল, হাইব্রিড ও স্থানীয় মিলে ৮৮ জাতের ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বেশি খারাপ হয়েছে ব্রি-২৮ জাতের ধান। ব্রি-২৯ ধানেও কোথাও কোথাও চিটা হয়েছে। গেল বছরই ব্রি-২৮ জাতের ধানের চাষাবাদ কমিয়ে আনা হয়েছিল। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ব্রি-২৮ জাতের ধান ৬৫ হাজার ৫০০ হেক্টর চাষাবাদ হয়েছিল। এবার হয়েছে ৪৩ হাজার হেক্টর। আগামী বোরা মৌসুমে এই ধান চাষাবাদ না করার জন্য এখন থেকেই কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।