শাল্লা প্রতিনিধি
শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে সাম্প্রদায়িক সহিংস হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় চলমান আন্দোলন, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারন, মামলার অবস্থা, আইনী পর্যালোচনাসহ সার্বিক বিষয়ে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকাল ৩ টায় শাল্লা সোচ্চার নাগরিক ফোরাম, সিলেট এর উদ্যোগে সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল হোসাইনী।
সংগঠনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় দুই নম্বর হবিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নোয়াগাঁও মামলার বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল’র দায়েরকৃত মামলাটির বিষয়ে বলা হয়, পুলিশ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ধারায় মামলাটি রেকর্ড করেছে। এজাহারের বিষয়ও বক্তব্য আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর বিভিন্ন ধারার অপরাধ হওয়া সত্বেও পুলিশ উক্ত আইনে মামলা রেকর্ড করেনি। পেনাল কোডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারাও সংযোজন করেনি পুলিশ। বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল’র দায়েরকৃত ও পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত উভয় মামলাতেই পরবর্তিতে পুলিশ কর্তৃক দণ্ডবিধির ৩৮২ ও ২৯৫(এ) ধারা সংযোজনের জন্য বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। এই থেকে বুঝা যায় পুলিশ ভালভাবে পর্যালোচনা না করেই ধারা সংযোজন করেছিল।
সিলেট বার এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন পি.পি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, যতদুর জানতে পেরেছি পুলিশ এখন পর্যন্ত লুটপাটকৃত বা চোরাই মালামাল উদ্ধার করতে পারে নি। এগুলি উদ্ধারের মাধ্যমে ৪১১ ধারা অন্তর্ভূক্ত করতে পারে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ধারা ৫০৫-এ (বি) বা চৎবলঁফরপরধষ ধপঃ নু ড়িৎফং, বঃপ এর উপাদানও মামলার এজাহারে রয়েছে- যা জামিনযোগ্য নয়, মিমাংসার যোগ্য নয় এবং দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য।
সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা সুনামগঞ্জ জেলা বার এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভিডিও-ফুটেজ, ছবি কালেক্ট করে সেগুলি দেখে অপরাধিদের চিহ্নিত করে পুলিশ প্রশাসন ও নিযুক্তিয় আইনজীবীগণের নিকট ‘সোচ্চার’ হতে সরবরাহ করার ব্যবস্থা নেয়া হলে এর মাধ্যমে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হবে এবং এগুলি বিজ্ঞ আদালতে প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞ আইনজীবীগণ অপরাধীদের জামিন লাভের বিরোধীতা করতে পারেন।
সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা অব. প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস রায় বলেন, আইনজীবীগণ তাঁদের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের পথ প্রসস্ত করতে পারেন। উপস্থিত আইনজীবীগণ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য অধিকতর সোচ্চার, সক্রিয় ও মনোযোগী হবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সুনামগঞ্জ বার এসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম শেফু মামলা দুর্বল ধারায় রেকর্ড করার বিষয়টি উল্লেখ করার পাশাপাশি আইনী বিষয়ে আলোচনা করেন।
সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান সেলিম সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
চার্জশীট যেন ঠিকঠাকভাবে দেয়া হয় এ বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস বলেন, যেহেতু হামলাকারীরা নিজেরাই হামলার ভিডিও করে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনেও মামলাটির চার্জশীট হতে পারে।
সংস্কৃতিকর্মী রুবেল শংকর পূর্ব হতে অবহিত করা সত্বেও হামলা প্রতিরোধে প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরেন।
অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে আলাপ আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
ভার্চ্যুয়াল সভায় অন্যান্যের মধ্যে এজাহারকারী বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল, ওমর ফারুক, শিক্ষক অনাদি তালুকদার, অ্যাডভোকেট অরুনাভ দাশ সন্দীপ, সংগঠনের সভাপতি জ্যোতিষ মজুমদার, অ্যাডভোকেট অমিতাভ চৌধুরী রাহুল, অ্যাডভোকেট সুব্রত দাশ, সহসাধারণ সম্পাদক আল হেলাল, সাহিত্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সমর দাশ, কার্যকরী সদস্য গৌতম সূত্রধর, সুমন কুমার, সদস্য টনিক চৌধুরী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে কেন্দ্র করে একটি অনাকাক্সিক্ষত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ১৭ মার্চ ২০২১ খ্রি. তারিখ সকাল ০৮-৩০ হতে ০৯-৩০ টার মধ্যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি শাল্লার হিন্দুধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে সহিংস হামলা ও লুটপাট চালায়। সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীরা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে বে-আইনী জনতাবদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ দরখাস্তকারী হয়ে একটি ও বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল দরখাস্তকারী হয়ে একটি মোট দুটি এজাহার শাল্লা থানায় দায়ের করা হয়। পরবর্তিতে ফেসবুকে পোস্টদাতা ঝুমন দাশ আপনের মা বাদী হয়ে বিজ্ঞ আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, শাল্লা সুনামগঞ্জ বরাবরে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।


