করোনাকালীন সমাজসেবায় অবদান, ঢাকা পোস্টের সম্মাননা পেয়েছেন ‘অসহায়ের পাশে আমরা’

স্টাফ রিপোর্টার
একটি পরিবারে ছয়জন সদস্য। এদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে দিনভর খাটেন একজন। পরিবারে শিশু ও নারী আছেন, আছেন বৃদ্ধ। যার আয়ে সংসার চলে তিনি রিকশা চালান, ঠেলাগাড়ি চালান, মুঠে, মজুর, দোকান কর্মচারী অথবা মাঠেঘাটের দিন শ্রমিক। গতর খাটিয়ে যা পান তা দিয়ে চাল-ডাল নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন। এরপর জ্বলে চুলা। অপেক্ষায় থাকা শিশু কিংবা বৃদ্ধজনের পেটে পড়ে অন্ন। কিন্তু করোনা তাঁর জীবিকার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের ঘরে চাল-ডাল নেই। উপোস থাকতে হচ্ছে ঘরের মানুষদের। কাঁদছে শিশু। শ্রমজীবী মানুষের ঘরে ঘরে ভাতের কষ্ট, জীবনের অনিশ্চয়তা ভর করছে সবদিকে। তবে মানুষই বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। অসহায়ের মুখে হাঁসি ফোটায়, সাহস জোগায়।
২০২০ মহামারির নিদানকালে এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষগুলোকে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে সামাজিক সংগঠন ‘অসহায়ের পাশে আমরা’। তখন করোনাভাইরাসে আতংকে গভীর সংকটে গোটা বিশ্ব। সংকটে ছিলো প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। মানুষের জীবন ও জীবিকা। একদিকে করোনা, অন্যদিকে জীবনযুদ্ধ। মানুষ বড় অসহায় হয়ে পড়ে।
তবে মানুষ আশায় বাঁচে, লড়াই করে। এই লড়াইয়ে মানুষ জয়ী হবেই। এই চেতনাকে ধারণ করে ২০২০ সনের মার্চে যাত্রা শুরু করে সামাজিক সংগঠন ‘অসহায়ের পাশে আমরা’। এরসঙ্গে যুক্ত হন কিছু স্বপ্নবাজ মানুষ। যারা পিছিয়ে থাকা নি¤œ আয়ের মানুষদের জন্য স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ান সব সময়। সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখেন।
করোনাকালে সমাজসেবায় অবদানের জন্য দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টার ঢাকা পোস্টের সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন সুনামগঞ্জের সামাজিক সংগঠন ‘অসহায়ের পাশে আমরা’। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা পোস্টের এক বছর পূর্তি ও দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এসময় সংগঠকদের পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত।
‘অসহায়ের পাশে আমরা’ এর সংগঠক অ্যাড. পঙ্কজ দে বললেন, করোনার ক্রান্তিকালে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় সামাজিক সংগঠন ‘অসহায়ের পাশে আমরা’। নি¤œ আয়ের মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয় অন্ন, স্বপ্ন দেখার সাহস। বিপন্ন মানুষগুলো যেন ঘোর বিপদে স্বস্তি পায় এজন্য আমরা কয়েকজন এই উদ্যোগ নেই। সাড়ে ৯ লাখ টাকার সহায়তা প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষকে খাবার, মাস্ক, স্যানিটাইজার, শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রদান করা হয়েছে।
সংগঠক অ্যাড. খলিল রহমান বললেন, মহৎ এই কাজ সফল করতে আমরা সংগঠকের ভূমিকায় কাজ করেছি। আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন প্রবাসী ও আর্থিক অবস্থান ভালো সেই সব ব্যক্তিরা। ঢাকা পোস্টেও এই সম্মাননা আমাদের কাজে আরও উৎসাহ, গতি আনবে।
অন্যান্য সংগঠকরা হলেন, অ্যাড. সালেহ আহমদ, অ্যাড. আইনুল ইসলাম বাবলু, ক্রীড়া সংগঠক পারভেজ আহমেদ চৌধুরী, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন, শিক্ষক-সমাজকর্মী কানিজ সুলতানা, অ্যাড. নাজনীন বেগম, জেলা আইনজীবী সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমেদ, অ্যাড. এস এম মাহবুবুল হাসান শাহীন, জেলা উদীচী সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, লেখক-সাংবাদিক শামস শামীম, সাংবাদিক-আইনজীবী এ আর জুয়েল, জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ।