করোনাকালে অনলাইন ব্যবসার প্রসার

পুলক রাজ
সারাদেশে প্রতিনিয়ত করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। করোনা ভাইরাসের ভায়াল থাবায় পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব পড়েছে সব ধরনের ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। করোনা মহামারিতে সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রসার ঘটেছে অনলাইন ব্যবসার। স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ক্রেতারা দোকানে কেনাকাটার পরিবর্তে অনলাইনে কেনাকাটাকেই নিরাপদ মনে করছেন। ক্রেতারা শাড়ি, কাঠের হাতের বালা, কানের দোল, কামিজ, সেলোয়ার, বিভিন্ন ধরনের গহনা, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা, টি-শার্ট, ইলেকট্রনিকস, খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের পণ্য কেনাকাটা করছেন অনলাইন থেকে।
অনলাইন ব্যবসার প্রসার ঘটায় অনেকে এসময় ব্যবসা শুরু করেন। তাদেরই একজন মাধুরী তালুকদার। বলেন, আমি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছি এক বছর ধরে। অনলাইনে বিজনেস শুরু করি গতবছর। করোনার সময় যখন সবাই ঘরবন্দী, তখন আমার এক আপুর মাধ্যমে অনলাইনে কাজ শুরু করি। অনলাইনে কাজ করে আমি সংসারের নানান সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি নিজের হাত খরচটাও চালিয়ে নিতে পারছি।
তিনি বলেন, আমি একটা কোম্পানির সাথে গত বছর থেকে সম্পৃক্ত আছি। আমি একটা অনলাইন পেজ খুলেছি যাতে মানুষের কাছে দ্রুত চলে যাওয়া যায়। থ্রিপিস, শাড়ি, ছেলেদের শার্ট, টি-শার্ট, পেন্টসহ ইলেকট্রনিকস অনেক পণ্য রয়েছে। যে কেউ সহজে অনলাইন অর্ডার করতে পারে এবং হোম ডেলিভারীতে কাক্সিক্ষত পণ্যটি পেয়ে যাচ্ছেন।
অনলাইন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা অনলাইনে কেনাকাটা করতে বেশ পছন্দ করেন। করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত বাড়ায় অনলাইনে বিক্রির পরিমাণ বেড়ে উঠায় ব্যবসায়ীরা খুশি। আবার ঘরে বসে নিজের পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে পেরে ক্রেতারাও সন্তুষ্ট। ক্রেতাদের মধ্যে যারা প্রথম দিকে অনলাইন কেনাকাটায় বিশ^াসী ছিলেন না, এখন তারাও কেনাকাটা করছেন।
ক্রেতা রহমান মিয়া বলেন, ঘরে বসে জিনিসপত্রের অর্ডার দিতে পারি। অনলাইনে সহজেই পছন্দের পণ্য পাওয়া যায়। লকডাউনে দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় প্রায় সময় অনলাইনেই কেনাকাটা করি। অনলাইন শপ জীবনকে অনকে সহজ করে দিয়েছে। এখন নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই অনলাইনে কেনা যায়।
অনলাইন ব্যবসায়ী প্রিয়াংকা কর প্রিয়া বলেন, আইম সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। লেখাপড়ার পাশাপাশি গত বছর আমি অনলাইন বিজনেস শুরু করি। শুরুতে আমি চটের মধ্যে সুতা দিয়ে কাজ করা বিভিন্ন জিনিস এবং কাঠের গহনা এবং এন্টিকস জুয়েলারী নিয়ে কাজ শুরু করি। এবছর বাটিক শাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি এবং খাদি পাঞ্জাবি নিয়ে কাজ শুরু করছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইনে কেনাকাটায় মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জন করেছেন। তবে ফেক মানুষকে চেনার জন্য তার প্রোফাইল এবং সবকিছু ভালো করে চেক করে প্রোডাক কেনাই ভালো। তাছাড়া ক্রয় করার আগে বিক্রেতা সম্পর্কে তথ্য জেনে ক্রয় করলে ঠকবেন না ক্রেতারা।