করোনা আতঙ্ক : ফুটপাতের খাবারের ব্যবসায় মন্দা

পুলক রাজ
করোনা আতঙ্কের ছায়া পড়েছে ফুটপাতের খাবারের অস্থায়ী দোকানগুলোতে। আর তাতেই চোখে অন্ধকার দেখছে ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাস তাদের কাছে বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ দোকানপাট প্রায় ক্রেতাহীন। এতে ভাটা দেখা দিয়েছে রোজগারে। এভাবে ব্যবসা কতদিন চলবে সেটাই দিনরাত চিন্তা তাদের। এদিকে সুনামগঞ্জে দিন দিন করোনাভাইরাসের সংক্রমন বাড়ছে। লকডাউন শিথিল করার পর পেটের দায়ে ফুটপাতে ব্যবসায়ীরা দোকান নিয়ে বসলেও করোনার ভয়ে এখন বাইরের খাবার খেতে ভয় পাচ্ছে মানুষ।
পথচারী গফুর মিয়া বলেন, ফুটপাতের খাবার তো ভুলেও এখন খাই না। আগে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঝালমুড়ি খাওয়ার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিলো। ভাজা-বড়া খাবার বাসায় নিয়ে যেতাম। এখন করোনার ভয়ে বাহিরের খাবার আর খাওয়া হয় না।
চানাচুর ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা নূর আলম বলেন, আগের তুলনায় অর্ধেকের চেয়েও কম বিক্রি হচ্ছে। রোজ তিনশত টাকারও বিক্রি হয় না। খুব খারাপ সময় যাচ্ছে।
লেবু শরবত বিক্রেতা আজমান বলেন, এই গরমে মানুষ আগে লেবুর শরবত খেতো। শরবতের জন্য প্রচুর মানুষের আনাগোনা হতো আমার এখানে। কিন্তু এখন বিক্রি নাই বললেই চলে।
ফুস্কা বিক্রেতা সঞ্জয় দাশ বলেন, করোনার ভয়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ তাই বিক্রি নাই। আমাদের মতো বিক্রেতারা খুব বিপদের মধ্যে আছি।
বাদাম ও মটর বিক্রেতা জাকির আহমেদ বলেন, আগের মতো এখন কেউ খেতে চায় না। মাঠে খেলাও হয় না , শিল্পকলায় কোন অনুষ্ঠানও হয় না। করোনার ভয়ে মানুষ বাইরের খাবার কম খায়।
পপকন বিক্রেতা রনি বলেন, খুব বিপদে আছি। মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে কিন্তু কেউ খেতে চায় না।
ঝালমুড়ি পাবেল আহমদ বলেন, ব্যবসা একদম
মান্দা। লকডাউন থাকা অবস্থায় রিকশা চালিয়েছি। এখন আবার ঝালমুড়ি বিক্রি করছি।
দুয়েল মিয়া বলেন, ভাবতেছি দইচিড়া বিক্রি করা বন্ধ করে দিবো। বিক্রি না হলে তো আর কিছু করার নাই। রিকশা চালাবো, কষ্ট হোক পরিবারকে নিয়ে দুমুটো ভাত খেতে তো পাড়বো।
পথচারী আনিস রহমান বলেন, কাজ ছাড়া বাইরে বাইর হই না। এখন যে সময় পড়েছে দরকার কি বাইরে খাওয়ার। এখন একটাই টিকে থাকা বড় কথা।