করোনা জয় করে ফের জনসেবায় তাঁরা

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
করোনাকালে মানুষের পাশে থেকেছেন তাঁরা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। যুদ্ধ করেছেন মহামারী করোনার সঙ্গে। সুস্থ্য হয়ে আবারও মানুষের সেবা দিচ্ছেন। সুনামগঞ্জের ২ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ৬ ইউপি চেয়ারম্যান ও ৪ ইউপি সদস্যের মধ্যে ১১ জনই করোনা জয় করে ফিরেছেন জনসেবায়। একজন সুস্থ্য হলেও এখনো পরিষদের কাজে যোগ দেন নি।
মহামারী করোনায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরাও (বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত জনপ্রতিনিধির ছোট্ট একটা অংশ ছাড়া) করোনা দুর্যোগে গৃহবন্দী না থেকে জনসেবায় নিজেদের উপস্থিতির জানান দিয়েছেন। তারাও নিঃসন্দেহে করোনাকালের অন্যতম সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
করোনা আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল (সস্ত্রীক), বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সফর উদ্দিন (স্বপরিবারে), দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনূর রশিদ, ছাতকের কালারুকা ইউপি চেয়ারম্যান মো. অদুদ আলম, একই উপজেলার খুরমা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ও একই উপজেলার মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক, জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাসিম (এখনো কাজে ফিরেননি), সৈয়দপুর-শাহারপাড়া’র ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফজলুর রহমান, দিরাই-সরমঙ্গল ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লা আল আমিন, সাচনাবাজার ইউপি সদস্য মানিক মিয়া ও ফেনারবাক ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া। করোনা সংক্রমিত ছাতক উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ বলেন, ‘এ মাসেই আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছি। বর্তমানে সুস্থ আছি। গত তিনটি বন্যায় ত্রাণ দিতে গিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হয়েছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমনিতেও সব সময় জনগণের সংস্পর্শে থাকতে হয়। আর করোনা ভাইরাসটি যেহেতু একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে প্রবেশ করে সেহেতু জনগণের কাতারে থাকতে গিয়েই সম্ভবত সংক্রমিত হয়েছি। আমরা যারা জনগণের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছি সরকার কি তাদের প্রতি নজর দিবে?’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধিকে নিয়মিতই জনগণের পাশে থেকেই কাজ করে যেতে হয়। সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে গিয়েই হয়তো আমি করোনা সংক্রমিত হয়েছি। সংক্রমিত থাকাবস্থায় প্রায় মাসখানেক গৃহবন্দী ছিলাম। বর্তমান সুস্থ্য আছি এবং আগের মতো পরিষদের কাজে ফিরে এসেছি।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনূর রশিদ জানিয়েছেন, গত মাসে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। পরবর্তীতে সিলেটের একটি হাসপাতালে ১৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখন পরিষদের কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন।
স্বপরিবারে আক্রান্ত বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সফর উদ্দিন বলেন, ‘পরিষদের কর্মকা- পরিচালনা করতে গিয়ে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমি স্বপরিবারে করোনা আক্রান্ত হয়েছি। তখন ২১ দিন হোম আইসুলেশনে ছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে সবাই সুস্থ্য আছি এবং পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছি।’
সস্ত্রীক আক্রান্ত তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘করোনা আসার পর থেকে সকাল থেকে রাত অবধি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। করোনা আক্রান্তদের আইসুলেশন ও কুয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে হাওরে কৃষকের সাথে ধান কাটায় অংশগ্রহণ করেছি। সর্বশেষ ১৯ জুন লাউড়েরগড় শাহ আরেফিন সড়কের কাজ উদ্বোধন করে এসে পরের দিন আক্রান্ত হয়েছি। ১৭ জুলাই করোনা মুক্ত হয়ে বর্তমানে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।’
সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বললেন, সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মধ্যে যারা করেনায় আক্রান্ত হয়েছেন- তাদের তালিকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে প্রণোদনা দেবার কোন নির্দেশনা আমরা পাইনি।