স্টাফ রিপোর্টার
দেশে করোনা শনাক্তের পর বর্তমানে দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। গত জুনে শুরু হওয়া এ ঢেউয়ে করোনায় শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি বিপর্যস্ত করে তুলেছে মহামারি পরিস্থিতিকে। গত বছর মার্চে শুরু হওয়ার পর ১৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর সময় পার করছি আমরা। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে সারাদেশে বিধিনিষেধ চললেও সংক্রমণ বাড়ছেই। আমাদের সুনামগঞ্জ জেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। গত মঙ্গলবারও দৈনিক শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছিল। করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিলেন ১২০ জন। একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার আবারও রেকর্ড ১৩০ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় এটিই এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের ঘটনা। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৫২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন জামালগঞ্জ উপজেলার ১ জন। এতে করোনায় মোট মৃতের সংখ্য দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত কোভিড ১৯ রিপোর্ট সূত্রে এই তথ্য জানা যায়, ৩৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় জেলায় করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ১৩০ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্ত শনাক্তের হার প্রায় ৩২.৮২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়, ৮৬ জন। অবশ্য নমুনা পরীক্ষায়ও এগিয়ে আছে এই উপজেলা। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২২৪ জনের। এ উপজেলায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় শনাক্ত করোনা রোগীর ৬৬ দশমিক ১৫ শতাংশ মিলেছে শুধু সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। জেলার মোট নমুনা পরীক্ষারও ৫৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ পরীক্ষাই হয়েছে সদরে।
এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৩ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৮ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ৫ জন, ছাতক উপজেলায় ১০ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৯ জন, এবং শাল্লা উপজেলায় ২ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত ৪০ জন সুস্থতার তালিকায় এসেছেন। এদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৯ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ১ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ১৭ জন এবং শাল্লা উপজেলার ৩ জন। এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত মোট ৩ হাজার ২৬৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ১,১৩৮ জন। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮৬ জন আইসোলেসনে আছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। এছাড়াও ছাতক উপজেলার ১১০ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৩৯ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ১৪৩ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪৯ জন, দিরাই উপজেলার ৫৮ জন, ধর্মপাশা উপজেলার ৩৩ জন, দোয়ারাবাজায় উপজেলায় ২১ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫০ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২৮ জন এবং শাল্লা উপজেলায় ২১ জন আইসোলেসনে রয়েছেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী করোনা সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ১৯০৩ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ১৩০১ জন।
এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৬৫ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ১৪৩ জন। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫৩ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ১১২ জন। তাহিরপুর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২২৯ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৮৪ জন। জামালগঞ্জ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৭২ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ১২১ জন। দিরাই উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২০০ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ১৩৯ জন। ধর্মপাশা উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৩৬ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৯৯ জন। ছাতক উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮২৯ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৭০৬ জন। জগন্নাথপুর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪১০ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৩৫৫ জন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৮০ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ১৫১ জন। শাল্লা উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৭৫ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৫৪ জন।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস শনাক্তে এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৬১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ২১ হাজার ৭৪১ জনের। এরমধ্যে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৭৭ জন। এদিকে এন্টিজেন নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৯৬ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১১৭৫ জন।
- এসএসসি-এইচএসসির অ্যাসাইনমেন্টের বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা
- জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার এঁর মা নুরজাহান বেগম আর নেই


