ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সকল সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার)। বিভিন্ন কৌশলে সিএইচসিপিদের হয়রানিও করা হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য স্থানীয় এমপির কাছে উপজেলার ২৪ জন সিএচইসিপি লিখিত অভিযোগও করেছেন।
অভিযোগ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেন চলতি বছরের ৩ মার্চ এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করছেন। তিনি সিএইচসিপিদের নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভা করেননি। ফলে সকলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। তিনি উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর পিযুষ কান্তি তালুকদারের মাধ্যমে বিভিন্ন সমেয় সিএইচসিপিদের আর্থিক অনিয়মের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সিএইচসিপিরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সময়মতো বেতন ভাতাদি প্রদান না করা ও বিনা অভিযোগে সিএইচসিপিদের বেতন ভাতা বন্ধ রাখেন। কোনো সিএইচসিপি জরুরি প্রয়োজনে নৈমিত্তিক ছুটি নিতে চাইলে নানা অজুহাতে ছুটি মঞ্জুর করেন না। এমনকি একজন সিএইচসিপি করোনা পজিটিভ হওয়ার পরেও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। যথাযথ কর্তপক্ষের মাধ্যমে কেউ মৌখিক ছুটি নিলেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং তার বেতন ভাতা বন্ধ রাখাসহ জনসাধারণ দিয়ে সিএইচসিপিদের কার্যক্রম তদারকি করা হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সিএইচসিপিদের প্রশিক্ষণ ভাতা ও অন্যান্য প্রোগ্রামের খরচ প্রদানে অনীহা প্রদান করেন। জরুরি প্রয়োজনে ফোন দিলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেন না। তাই সিএইচসিপিরা গত বুধবার লিখিতভাবে স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে লিখিতভাবে এ সমস্ত অভিযোগ করেন। এর পরদিন বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভা কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদুয়ানুল হালিম, অভিযুক্ত ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেন, অভিযোগকারী সিএইচসিপিসহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে জরুরি বৈঠক ও মতবিনিময় করেন এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন। সেই বৈঠকে বিষয়টি সমাধান হয়।
বিবদমান সমস্যা আপাতত সমাধান হয়েছে জানিয়ে উপজেলা সিএইচসিপি এসোসিয়েশনের সভাপতি জাহান শরীফ বলেন, ‘পুনরায় এমন হলে আমরা বিভাগীয়ভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে নয় বরং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামগ্রিক বিষয় মূল আলোচ্য বিষয় ছিল জানিয়ে ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, ‘দূর্গম হাওরে চাকরি করতে তাদের (সিএইচসিপি) কষ্ট হয়। তাদের ইরেগুলারিটি লক্ষ করলে তারা অসন্তুষ্ট হয়। তাই বিষয়টি অন্যদিকে মোড় ঘুরানোর চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগের ব্যাপারে জানিনা।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘উভয়পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে স্থানীয় সাংসদ তাদের মধ্যে সমন্বয় করে দিয়েছেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ওই মতবিনিময় সভায় আলোচনা করা হয়।’


