২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে কর্মক্ষেত্রে ১ হাজার ৪২৮টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭৫ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু নিহত শ্রমিকদের অধিকাংশ পরিবারই বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাননি। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকা-ে এবং ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে প্রাণ হারান সহ¯্রাধিক শ্রমিক। এমন দুর্ঘটনার পর কর্মক্ষেত্র আরো নিরাপদ হয়ে ওঠা উচিত ছিল। কর্মক্ষেত্র নিরাপদ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো যে তা যথেষ্ট নয়, এটি মৃত শ্রমিকের সংখ্যা দেখলে সহজে অনুমেয়। পোশাক খাতে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা নিরসনে সরকার, ইউরোপভিত্তিক ক্রেতা ও শ্রমিক অধিকার জোট অ্যাকর্ড এবং উত্তর আমেরিকাভিত্তিক অ্যালায়েন্স বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও দুর্ঘটনা থেমে নেই। প্রতি বছরই কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক। এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে চাইলে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। কারখানার পরিবেশ শ্রমিকদের জন্য কতটুকু নিরাপদ, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। আরেকটি দুঃখজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিহত শ্রমিক পরিবারকে চলমান শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে মালিকরা যে অর্থ প্রদান করেছেন, তা খুবই সামান্য। যে শ্রমিকের ওপর ভর করে অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখা হচ্ছে, তাদের বিপদের সময় এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আবার নিহত শ্রমিকের ঠিকানা, পোষ্যদের নাম ও আনুষঙ্গিক কাগজাদি সংগ্রহ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তিতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এসব ব্যাপারে আগে থেকেই তথ্য নেয়া থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় না। এছাড়া শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য আইনকে আরো শ্রমিকবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ থেকে শ্রমিকদের দ্রুত রক্ষা করার জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান আইনে নেই। আবার দুর্ঘটনা মোকাবেলায় শ্রমিকদের জন্য যথাযথ তথ্য ও প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়েও কোনো বিধান নেই। অনেক সময় শুধু যথাযথ তথ্য ও প্রশিক্ষণের অভাবে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়গুলোও আইনে যুক্ত করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে ঝুঁকি নিরূপণ পূর্বক কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হলেও এর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। বিদ্যমান যে আইন রয়েছে, সেটাই যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাতেও পরিস্থিতির অনেক উন্নতি ঘটবে। তবে সরকারের একার পক্ষে আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, এজন্য মালিক ও শ্রমিক সংগঠনকেও এগিয়ে আসতে হবে। শ্রমিক অধিকার সংস্থাগুলো শ্রম আইনে বেশকিছু সংশোধনী আনার দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান পালনে যথাযথ পদক্ষেপ চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক মালিক কর্তৃক শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণ। এছাড়া নিহত শ্রমিকের পোষ্য বা পোষ্যদের ও স্থায়ী অক্ষম শ্রমিকের সুচিকিত্সা এবং তার ও পোষ্যদের জীবন-জীবিকার জন্য সহায়ক কোনো বিধান আইনে নেই। সরকার এ বিষয়গুলো ভেবে দেখতে পারে।
শুধু আইন করে এ পরিস্থিতি পাল্টানো সম্ভব নয়। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা ও দুর্ঘটনার হাত থেকে তাদের বাঁচাতে সব পক্ষকে সজাগ হতে হবে। আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
- রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-চীনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী
- পূজার ছুটিতে ঘুরে আসুন ৩০০ বছরের পুরোনো পূজায়

