সু.খবর ডেস্ক
আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে নিজের সবকিছু আত্মত্যাগ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সততার সঙ্গে চলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। যে সংগঠন বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন, যে সংগঠনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে।
আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হককে স্মরণ করেন তিনি।
নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সততা সবচেয়ে বড় শক্তি। সততা দিয়েই যেকোনো দুর্যোগ ও দুর্বিপাক মোকাবিলা করা যায়। যে সততা দিয়ে উঁচু গলা কথা বলার সাহস জোগায়, সততার এই শক্তি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকেই শিখেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা যেকোনো ক্রান্তিকালে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হয়তো ওপরের নেতারা ভুল করেছেন। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে অর্থনীতির মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছি, আরও দেব। বাংলাদেশের মানুষ কেবল নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছেছে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
পুরো বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই কিছু দিয়েছে। এর বাইরে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণকে শোষণ করেছে। আওয়ামী লীগ প্রতিটি পদে পদে সংগ্রাম করেছে। সংগ্রাম করেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে নেতা দল গোছানোর জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন, সেই সংগঠনের শিকড় কত গভীরে, বারবার আঘাত করেও যারা কিছু করতে পারেনি, তারাই এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি দলকে সুসংগঠিত করতে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অনুপম সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে কিছুক্ষণের জন্য সেখানে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর দলের পক্ষ থেকেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


