মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুরের দেলোয়ার হোসেন। ২০ শতক জমিতে সাগর, সফরি ও লুঙ্গি কলার চাষ শুরু করেন তিনি। পরে আরও ১০ শতক জমিতে পুকুরের পাড়ে সফরি কলা ও টক ঝাল মিষ্টি লুঙ্গি কলার চাষ করেন। এখন তিনি মোট ৩০ শতক জমিতে কলা চাষ করছেন। কলা চাষে দেলোয়ারের সফলতা দেখে আশেপাশের গ্রামের বেশ কয়েকজন কলা চাষে নেমেছেন।
দেলোয়ার বলেন, ১ ফুট লম্বা কলার চারা লাগানোর ৫ মাসের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। একবার চারা রোপন করলে পুনরায় তা আর রোপন করতে হয় না। গাছের কলা পূর্ণাঙ্গ হলে কেটে ফেলার কিছু দিন পর ঐ গাছের গোড়া থেকে নতুন চারা জন্মায়। তিনি জানান, যে জমিতে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে না এমন জমি কলা চাষের জন্য উপযোগী। আমি প্রথমে ২০ শতক জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে ১৫০টি চারা রোপন করি। চারা রোপনের ৫ মাস পর ৫০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করি। পরে আরও ১০ শতক জমিতে ১২০ টি সফড়ি ও লুঙ্গি কলার চাষ করি। এতে উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা কলা বিক্রি হবে। আমার কলা চাষ দেখে অনেকেই কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে।
কলাচাষী আলী হোসেন বলেন, দেলোয়ার ভাইকে অনুসরণ করে আমিও ১০ শতক জমিতে সাগর কলা সহ কয়েক জাতের কলা চাষ করেছি। অন্য ফসল বিক্রিতে কিছু ঝামেলা থাকে, কিন্তু বিক্রিতে কোন ঝামেলা নাই। খুচরা-পাইকাররা জমি থেকে কলা কেটে নিয়ে যায়। সাগর কলা ছড়ি এক থেকে দেড় হাজার টাকা, সফরি কলার ছড়ি আটশ’ থেকে একহাজার টাকা বিক্রি হয়।
স্থানীয় কলার পাইকার আবুল হোসেন বলেন, দেলোয়ার ভাইয়ের কলা উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন। পাশাপাশি আমিও উনার জমি থেকে সাগর সফরী ও লুঙ্গি কলা বিক্রি করে সংসারে আয় করছি। কলা ছাড়াও প্রতিটি কলার চারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, স্বল্প খরচে কলা চাষ লাভজনক হওয়ায় কলা চাষ বাড়ছে। আমরা মাঝে মধ্যে ফল চাষীদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এছাড়া আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কলা চাষীদের খোঁজ খবর রাখছেন।


