হোসেন তওফিক চৌধুরী
বর্ষ পরিক্রমায় আজ বাংলা নববর্ষের শুরু। ১লা বৈশাখ। মোঘল স¤্রাট মহামতি আকবরের সময় থেকেই বাংলা সনের প্রবর্তন। এটি ফসলী সন হিসেবে প্রবর্তন করা হয়। নববর্ষ শুধু আমাদের দেশেই নয় অন্যান্য দেশেও অত্যন্ত আড়ম্বরে উদযাপিত হয়। আমাদের দেশে এবার কাঙ্খিত বৈশাখ আসেনি। আমরা যে বৈশাখের স্বপ্ন দেখি বা যে বৈশাখের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি সে বৈশাখ এবার আসেনি। এবারের বৈশাখ এসেছে রুদ্রের প্রতীক হিসেবে, এসেছে দু:খ-দৈন এবং মহাবিপর্যয়ের প্রতীক হিসেবে। বৈশাখ আসার আগেই আমাদের বুকভরা স্বপ্নের ফসল প্রাপ্তির সম্ভাবনা-প্রত্যাশার মৃত্যু হয়েছে। ভাটি বাংলার সর্বত্র এখনই হাহাকার ও আহাজারী। আগামী দিনগুলো নিয়ে মানুষ আশঙ্কিত-উদ্বিগ্ন। মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা বৈশাখে মানুষ ঘরে ফসল তুলবে কিন্তু এবার তো ফসল বিপর্যয় হয়ে মানুষের জীবনে নেমে এসেছে গভীর সংকট। হাওর পাড়ে শুধু কান্না আর কান্না। আহাজারি। এদের জীবনে এবার বৈশাখের কোন প্রভাব নেই। আনন্দ-উল্লাস নেই। নববর্ষের দিনে যে ধরনের উল্লাসিত হওয়ার কথা তা আজ তিরোহিত। প্রতিটি মানুষ এখন
বিষাদের প্রতিমূর্তি। মানুষের হাসি-আনন্দ মিলিয়ে গেছে। হাওরের মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এর পরেও ১লা বৈশাখ উদযাপিত হবে। নববর্ষের আনন্দ স্ফূর্তি হবে। সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিরাজমান অবস্থার প্রেক্ষিতে বৈশাখী উৎসবের সকল কর্মসূচি বাদ দিয়েছেন এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান বৈশাখ উদযাপনের সকল অর্থ বিপন্ন মানুষের মধ্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত সঠিক ও অভিনন্দনযোগ্য।
বৈশাখ যেভাবেই আসুক আমরা তা বরণ করি। আর সেই সাথে দাবি জানাই অবিলম্বে সুনামগঞ্জ সহ সমগ্র ভাটি এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হোক এবং যাদের গাফিলতি, উদাসীনতা-দুর্নীতির জন্যে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ হয়নি তাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যারা ফসলহানির জন্যে দায়ী তারা যেন কোন অবস্থায়ই রেহাই না পায়। দেশে আইন আছে এটা তাদের বুঝতে দিতে হবে। এবারের বৈশাখে এ ছাড়া আর কোন বক্তব্য নেই।
লেখক: আইনজীবী-কলামিস্ট


