কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমিল্লাপাড়া এলাকার কবরস্থানের পাশের খালে ফসল রক্ষা বক্স কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের মতামত না নিয়ে পুরাতন বক্স কার্লভার্ট ভেঙে নতুনভাবে বক্স কার্লভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। কালভার্টের নিচে অতি গভীরে ফাউন্ডেশন করা হয়েছে। বক্স কালভার্টের মুখ বাঁকা আকৃতির হওয়ায় খালে পানি প্রবাহিত না হয়ে অন্যের ফসলি জমিতে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হবে। বক্স কালভার্টের কাজ খুবই নি¤œমানের করা হচ্ছে বলে অনেকের মন্তব্য।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই বক্স কালভার্ট নির্মাণের আগে পুরাতন বক্স কার্লভার্ট দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হতো। এতে ফসলের সামান্য ক্ষতি হলেও জমির ফসল মানুষ ঘরে তোলতে পারতো। পাহাড়ি ঢলের পানি সকালে আসলে বিকালে নেমে যেতো। এখন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খায়েরের সহযোগিতায় যেভাবে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, এতে ঢলের পানি নামার সময় অন্যান্য কৃষকদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই কালভার্টের মুখ বাঁকা করে দেয়া হয়েছে। পানির গতিপথ হচ্ছে খাল ছেড়ে অন্যের জমির উপর দিয়ে। এতে কৃষকের ফসল তোলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কালভার্ট নির্মাণে কোনো সাইন বোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়নি। তাই বক্স কালভার্টকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
ইউনিয়নের নারায়নতলা, লম্বাহাটী, কুমিল্লাপাড়া, ভৈরবহাটী, কাঁঠালবাড়ি, মালাইগাঁও, উত্তর ইসলামপুর গ্রামের কৃষকদের প্রায় ৩শত একর ফসলি জমি রয়েছে। প্রাচীনকালে শব্দর আলীর খাল নামে পরিচিত কুমিল্লাপাড়া কবরস্থানের পাশের এই খাল সরকারী খাস খতিয়ানে রয়েছে।
স্থানীয় প্রাক্তন ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন,‘কমিল্লাপাড়া এলাকার কবরস্থানের পাশের খালে পুরাতন কালভার্ট ছিল। এই কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। পাহাড়ি ঢলের পানি অল্পক্ষণ থাকতো। ফসলের সামান্য ক্ষতি হতো। কিন্তু প্রায় সব ফসল কৃষকেরা ঘরে তুলতে পারতো। এখন যে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটির পানি প্রবাহের মুখ বাঁকা করে দেয়া হয়েছে। এতে অন্যের জমিতে পানি প্রবাহিত হয়ে ফসল নষ্ট হবে। বক্স কালভার্টের কাজও নি¤œ মানের হচ্ছে।’
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মজিদ মজুমদার, জাবেদ আলী, আনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে জানান,‘আগের কালভার্ট ছিল সোজা। পানি প্রবাহিত হতে সমস্যা হওয়ায় নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ হচ্ছে। এই নির্মিত কালভার্টের পানি প্রবাহের মুখ বাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। কাজও নি¤œমানের হচ্ছে। ফাউন্ডেশন নিচু করে দেয়া হয়েছে। পানি চলাচল হবে না। জমিতে দুই ফসল করা নিরাপদ হবে না। এখন ঢলের পানি খালের পাড়ে প্রবাহিত হয়ে অন্যের জমিতে পড়বে। কালভার্টের নিচে পানি জমাট হয়ে থাকবে। ফসল রক্ষা কাজের উপযোগী করে সঠিকভাবে কালভার্ট নির্মাণের দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খায়ের বলেন,‘আমার ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। আমি দেখাশোনা করি। সহযোগিতা করি। এই কালভার্টে বেশিরভাগ মানুষের উপকার হবে। কালভার্ট বাঁকা করে নির্মাণ করা কোনো বিষয় নয়। কালভার্টের ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে যাতে খালেরপাড় ভেঙে না যায় সে জন্য গার্ডওয়াল দেয়া হবে। ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখে গেছেন।’
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানিক মিয়া বলেন,‘পানি প্রবাহের জন্য খালেরপাড়ে গার্ডওয়াল দেয়া হবে।’