কাশেম হত্যা/ মামলা প্রতিহত করতে লুটপাটের অভিযোগ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে ঈদুল ফিতরের দিন দুইপক্ষের সংঘর্ষে মারা যান মাইজখলা গ্রামের মৃত. ইদ্রিস মিয়ার পুত্র আবুল কাশেম (৩০)। হত্যা মামলা প্রতিহত করতে এখন থানায় লুটপাটের অভিযোগ করেছে আসামী পক্ষ। তবে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মাইজখলা গ্রামে উপস্থিত হয়ে আসামি পক্ষের বাড়ি—ঘর ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাইজখলা গ্রামে আসামিদের বাড়িতে লুটপাটের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজের পর এক বাচ্চার জুতা হারিয়ে যায়। জুতা হারানোকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের শান্ত মিয়া এবং রহমত আলীর পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে শান্ত মিয়ার নাতি কাশেম সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ দিন বিকালে মারা যায়।
হত্যা মামলার প্রধান আসামী রহমত আলীর ছোট ভাই প্রবাসী নুরুজ্জামানের স্ত্রী জুবেদা আক্তার বলেন, আমার ও আমাদের বাড়ির কারও মালামাল লুটপাট হয়নি। এমনকি অন্য কোন আসামীর বাড়ি—ঘর, ধান ও মালামাল লুটপাটের কথা আমি শুনিনি।
মাইজখলা গ্রামের আব্দুল্লাহ স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম বলেন, আমার বাড়ির মালামাল কেউ নেয়নি। আমি কারও জন্য মিথ্যা বলতে পারব না, লুটপাটের ঘটনা আমার জানা নেই।
মাইজখলা গ্রামের আব্দুল সমাদের মেয়ের জামাই কচুদাইর গ্রামের আহমদ আলীর পুত্র ফরিদ মিয়া বলেন, সংঘর্ষের পর থেকে আমি শ্বশুর বাড়ি মাইজখলা গ্রামে আছি— লুটপাটের ঘটনা এখন পর্যন্ত শুনি নাই।
এ ব্যাপারে নিহত আবুল কাশেমের ভাই হানিফ মিয়া বলেন, আমার ভাই আবুল কাশেম হত্যা মামলাকে বানচাল করার জন্য আসামীরা বাড়িঘর লুটপাট করার কথা বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় প্রচার করছে। আমরা অসহায় হওয়ার কারণেই প্রভাবশালীরা আমার পরিবারের উপর আক্রমণ চালিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত প্রধান আসামী রহমত আলী সহ অনেক আসামী ধরাছেঁায়ার বাইরে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমারা জোর দাবি জানাচ্ছি আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য।
এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ দেব দুলাল ধর বলেন, মামলার ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই গ্রামে তিনদিন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। লুটপাটের একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।