কিছু স্কুলে আগ্রহীদের ভর্তিতে প্রতিবন্ধকতা

বিশেষ প্রতিনিধি
বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে নানা চেষ্টা করা হলেও সুনামগঞ্জের অনেক স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে আগ্রহীদের ‘না’ করে দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য বা মানবিক বিভাগে ভর্তি না হলে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে অন্য স্কুলে চলে যাবার জন্য জেলার সরকারি স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকরাও অভিভাবকদের বলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুনামগঞ্জ সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক এ প্রতিবেদকের মুঠোফোনে কথা বলার সময় বলেন,‘‘আমার নাম লিখলে, আমার মেয়েটিকে শাসাবেন প্রধান শিক্ষক, আমার নাম দয়া করে লিখবেন না, মেয়েটি আমার জেএসসিতে ৪.১৫ পেয়েছে। আরো ভাল ফল করার প্রত্যাশা ছিল আমাদের। মেয়েটি বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আগ্রহী। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, ‘আপনার মেয়েকে মানবিক বিভাগে পড়াতে হবে, না হয় ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে অন্য স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ান। তবুও আমি আবেদন করেছি। কিন্তু বৃহস্পতিবার (বিকাল ৪ টা পর্যন্ত) আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।’’
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক একইভাবে জানালেন,‘আমার ছেলে জেএসসিতে ৪.২০ পেয়েছে, আমাকে বলা হয়েছে, আপনার ছেলেকে মানবিক বিভাগেই পড়তে হবে, আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।
জেলার অন্য অনেক স্কুলেই এভাবে বিজ্ঞান পড়তে আগ্রহীদেরও ফলাফল ভাল হয়নি অজুহাত দেখিয়ে বলা হচ্ছে- ‘ জেএসসিতে জিপিএ-৫ পাওনি, তোমার বিজ্ঞান পড়া লাগবে না’।
সরকারী জুবিলী  উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান মোল্লা এ প্রসঙ্গে বলেন,‘আমার বিদ্যালয়ে ৪ সেকশনে ২৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা বলেছি প্রতি সেকশনে ৪০ জন বিজ্ঞান এবং অন্য ২০ জনকে মানবিক বা বাণিজ্য বিভাগ নিতে হবে। সেক্ষেত্রে যারা জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে’। জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা কেবল বিজ্ঞানে পড়তে পারবে, অন্যরা পড়তে পারবে না, সরকারের এ ধরনের কোন পরিপত্র আছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘এ ধরনের কোন পরিপত্র নেই, জিপিএ-৫ পেলে বিজ্ঞানে পড়তে হবে বা জিপিএ-৫ না পেলে বিজ্ঞানে পড়তে পারবে না, এমন কোন সরকারি সিদ্ধান্ত নেই। এসএসসিতে ভালো ফলাফলের কথা বিবেচনায় রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যেও বিশেষ বিবেচনা করা যেতে পারে’।
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের কাছে এ বিষয়ে জানার জন্য কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (নবম শ্রেণির ক্লাস টিচার) সাঈদুর রহমান অবশ্য বলেছেন,‘যারা বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার আবেদন করেছে, তাদের সকলকেই সুযোগ দেওয়া হবে’।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন,‘শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য আগ্রহী করে তোলতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে অথচ. কোন কোন স্কুলে বলা হচ্ছে- জিপিএ-৫ না পেলে বিজ্ঞানে পড়তে পারবে না। বিশেষ করে সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারী সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এটি করা হচ্ছে বলে আমিও শুনেছি, বিষয়টি সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে এবং এটিকে বিজ্ঞানে শিক্ষা প্রসারের প্রতিবন্ধকতা বলেই ধরে নিতে হবে’।