Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
কৃষকদের মাঝে ৯০ টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

কৃষকদের মাঝে ৯০ টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে

নিরাপদে ধান উত্তোলনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ‘কাটলে হাওরের ধান, মিলবে ত্রাণ’ শিরোনামে কৃষকদের মাঝে বরাদ্দকৃত ৯০ টন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ১২,০০০ হাজারের অধিক হাত ধোয়ার সাবান, গামছা, মাস্ক, খাদ্যদ্রব্য, ১৫০০ এর অধিক ধান কাটার কাঁচি বিতরণ করছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। অন্যান্য জেলা হতে আগত কৃষি শ্রমিকগণের যাতায়াত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে সারা দেশের প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ একযোগে কাজ করছে। হাওরে ধান কাটার জন্য আগত বিভিন্ন জেলার কৃষি শ্রমিকদের থাকার জন্য হাওরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ধান কাটার কাজ তদারকি করছেন সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ। শুক্রবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়-আশা করা যায় সমন্বিত উদ্যোগের ফলে হাওড়ের ফসল সকল ধরণের প্রতিবন্ধকতা জয় করে কৃষকের ঘরে তুলে দেয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ হবে। একইসাথে কৃষকের ধান ন্যায্য মূল্যে বিক্রির লক্ষে এ জেলার মিল মালিক ও ধান ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে এবং খাদ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ জেলার প্রাপ্ত ২৫৮৬৬ মেঃ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে নির্ধারিত মূল্যে কেনার লক্ষ্যে সব পর্যায়ে স্বচ্ছ তালিকা তৈরির কার্যক্রম চলমান। যাতে কোন ফড়িয়া বা মধ্যসত্বভোগী মহল কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যপী এক সংকট দেখা দিয়েছে। WHO এর ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী বিশ্বের ৩ কোটি মানুষ এই সংকটে খাদ্যাভাবে মৃত্যবরণ করতে পারেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে অনেক পূর্বেই এ বিষয়ে অনুধাবন করতে পেরে দেশবাসীর উদ্যেশে প্রদত্ত ৩১ দফা বক্তব্যের মধ্যে তিনি দেশের প্রতি ইঞ্চি জমিতে খাদ্য শস্য, সবজি এবং ফলমূল আবাদের বিষয়ে সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দেশের খাদ্যচাহিদা মেটাতে সুনামগঞ্জ জেলার উৎপাদিত ধানের গুরুত্ব সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্যক অবগত আছেন এবং তার সুচিন্তিত নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে যেকোনো রকম সম্ভাব্য দূর্যোগের পূর্বেই নিরাপদে ধান ঘরে তোলার জন্য সরকার তৎপর রয়েছে। চলমান ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুনামগঞ্জের হাওর ও হাওর বহির্ভূত প্রায় ২১৯৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১২ লক্ষ মেট্রিক টন যা সুনামগঞ্জের চাহিদা মিটিয়েও সারা দেশের খাদ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।

আসন্ন ২৬ হতে ৩০ এপ্রিলে তারিখে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আগাম বন্যা পূর্বাভাসের ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার অতি জরুরি ভিত্তিতে হাওরে পেকে যাওয়া সকল ধান ২৫/৪/২০২০ তারিখের পূর্বেই ঘরে তোলার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে মাঠে ঝাপিয়ে পড়েছে জেলা প্রশাসন। বিভাগীয় কমিশনার সিলেট বিভাগ, সিলেট নিজে সুনামগঞ্জ জেলার কর্মকর্তাগণকে নিয়ে সুনামগঞ্জে মাঠ পর্যায়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওর সমূহের ধান কাটার কাজ তত্ত্বাবধান করেন এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কাটার কার্যক্রম সম্পর্কে সকলের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি ধান কাটা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট জেলার সকলকে নিয়ে একটি নির্দেশনামূলক সভা করেন এবং বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের খাদ্যচাহিদা যোগানে সুনামগঞ্জের ধানের গুরুত্ব বিষয়ে সকল উপলব্ধি করান। সুনামগঞ্জের প্রতিটি হাওরের ফসল নিরাপদে কৃষকের ঘরে তুলে দেয়াকে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনা করে, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মাঠে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

জেলার আনসার, কর্মক্ষম ছাত্র-শিক্ষক, পরিবহন শ্রমিক, মৎস্যজীবী, বারকি শ্রমিক, পাথর-বালু মহাল শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট-হোটেল শ্রমিক, কলকারখানার কর্মহীন শ্রমজীবী সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে সুনামগঞ্জ জেলায় প্রত্যাগত বিশাল জনসমষ্টি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধান কাটার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ফলে ৬ দিনের মাঝে ধান কাটা, মাড়াই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের শ্রমিকে সংখ্যা ৩০৫৯২ হতে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪৪৫৬ এ উন্নীত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃক ০৭/০৪/২০২০ ইং তারিখে সুনামগঞ্জের ধান দ্রুত কাটার সমস্যা সমাধানে প্রদত্ত ৪০ টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার সহ মোট ১১০ টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও ১১৮ টি রিপার মেশিন মাঠে কাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলার মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণ এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের নির্দেশনা অনুযায়ী ধান কাটার কাজ তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। একই সাথে সুনামগঞ্জের হাওরে প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৪৫ টি পিআইসি এর মাধ্যমে নির্মিত ৬৩৩ কি।মি। ফসল রক্ষা বাঁধ এবং ১৩৫ টি ক্লোজার সার্বক্ষনিক নজরদারি এবং তত্ত্বাবধানের মধ্যে রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি