কৃষকের নামের তালিকায় ‘ব্যবসায়ী’ দিরাই-শাল্লা এলএসডি’তে ধান বিক্রির পায়তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের

টিপু সুলতান, দিরাই
দিরাই-শাল্লা এলএসডি’তে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারছেন না।। প্রতিদিন এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে ধানের নমুনা নিয়ে ধর্ণা দিলেও তালিকা না পাবার অজুহাতে কৃষকদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠছে। কৃষি অফিসে নাম অন্তর্ভূক্তি করাতে গিয়েও নানাভাবে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষির সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ কৃষকের গোলা শূন্য। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের পুঁজি করে মধ্যস্বত্বভোগীরা এলএসডি’র অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে অলিখিত চুক্তিতে ধান বিক্রির পায়তারা করছেন। যাদের গোলায় ধান আছে সেইসব কৃষকরা যাতে ধান বিক্রির সুযোগ না পায়  সেই জন্য একেক সময় একেক নিয়ম চালু করা হচ্ছে।
দিরাই এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, ‘১১ মে উপজেলা ধান-চাল সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির  সভায় প্রকৃত কৃষকের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণের জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী বৈঠকে  চূড়ান্ত করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা পাবার পরই ধান কেনা শুরু হবে। উপজেলা ক্রয় কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনোভাবেই ধান কেনার ক্ষমতা নেই আমার’। তিনি আরও জানান, ‘ উপজেলা ধান-চাল সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাক্ষর করা পৌর এলাকার ১৩৫ জন কৃষকের নামের তালিকা গতকাল বৃহস্পতিবার পেয়েছি। ওই তালিকায় অধিকাংশরাই ব্যবসায়ি বলে পৌর মেয়র আপত্তি করায় এ নিয়ে জটিলতা আরও বাড়ছে।’   
শাল্লা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদুর রউফ বলেন,  ৫ মে থেকে ধান কেনা শুরুর কথা ছিল। কৃষকের নামের তালিকা না পাওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে খাদ্য-শস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করতে  
 পারেন নি । তিনি দাবি করেন, (গতকাল বৃস্পতিবার ও এর আগের দিন বুধবার) দু’দিনে যাদের কাছ থেকে ২৩ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৃত কৃষক। শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক বলেন, ‘কৃষি কার্ড অনুযায়ী ২৬০ জনের একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। তালিকায় ব্যবসায়িরা থাকতেই পারেন। কারণ একজন ব্যবসায়ি জমি চাষ করলে তিনিও কৃষকের পর্যায়েই পড়েন’ । তিনি জানান, ‘যারা চাকুরী করে তারাও জমি চাষাবাদ করতে পারে। যেমন শাল্লার সব সাংবাদিকই সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে কৃষি অফিসে কার্ড জমা দিয়েছেন।’
দিরাইয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রণধীর চৌধুরী বলেন, ‘ধান বিক্রি করতে আগ্রহী পৌর এলাকাসহ ইউনিয়নভিত্তিক ৪/৫’শ কৃষকের নামের তালিকা করে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কার্ডে ধানের পরিমাণও উল্লেখ আছে। এখন এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসব কৃষকের ধান কিনবেন কি-না তিনিই জানেন।’
পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া বলেন, ৯ ওয়ার্ডে কৃষকের যে তালিকা করা হয়েছে তাতে অনেক ব্যবসায়ির নাম রয়েছে। তালিকা সংশোধন করে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য তিনি বলেছেন।
ধান-চাল সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে খাদ্য সংগ্রহ অভিযানের কাজ বিলম্বিত হলেও নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই  ধান কেনা হবে।
এলএসডি’র কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাইয়ে ৪ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন এবং শাল্লায় ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। ৫ মে থেকে খাদ্য-শস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুর সময়সীমা ছিল যা শেষ হবে ৬ জুন । এর পর থেকে শুরু হবে চাল কেনা। চলবে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। অবশ্য এ সময়সীমার মধ্যে চালের পাশাপাশি ধানও ক্রয় করা যাবে।