ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ:
অনেক তৃিপ্ত নিয়ে এ বছর কৃষকরা সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু করেছেন। গত বছর যে সময়টাতে তাদের চোখে মুখে ছিলো শংকা, দুশ্চিন্তা আর ফসল হারানোর হাহাকার এ বছর তেমনটা হয়নি। এ বছর সোনালি ধানের ম ম গন্ধে সেহরির ভাত খাওয়া শুরু করেছেন তারা। সরকারের দেওয়া মোটা অথবা সিদ্ধচাল খেয়ে যেখানে গত বছর রোজা থাকতে হয়েছে সাধারণ কৃষকদের সেখানে এবছর নতুন ধান কেটে, মাড়াই দিয়ে, শুকিয়ে চাল কলে ভাঙ্গিয়ে নতুল চালের ভাত খেয়ে রোজা রেখেছেন অধিকাংশ কৃষক। গতবারের হাহাকার এ বছর তাদের মাঝে এখন আর নেই, নেই অধিকার আদায়ের দাবি, সরকারের সাহায্য আসবে সে আশায়ও এ বছর আর কৃষকদের পথ চেয়ে বসে থাকতে হয় না। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সকল কৃষকসহ আমাদের জেলার সব কৃষকই এ বছর প্রায় সাবলম্বী। এ বছর আর ভাতহীন থাকবে না কৃষকের ভাতের পাতিল, শূন্য পড়ে থাকবে না কোনো কৃষকের ধানের ভাড়ার। ফলন ভালো হওয়ায় এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকার কারণে জেলার সকল কৃষকই প্রায় ষোল আনাই ধান তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এতে স্বস্তি বিরাজ করছে তাদের মনে। হাসছে হাওর পাড়ের প্রতিটি কৃষক পরিবার। তাই গত বছরের মতো শুরু হয়নি এবছরের রমজান মাস। একটু আমেজ আর উৎফুল্লতা নিয়েই শুরু হয়েছে পবিত্র এ মাস।
কৃষকরা জানান, রমজান মাস এলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য মাসের তুলনায় খরচ একটু বেড়ে যায়। আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়। ইবাদত বন্দেগি করতে হয়। কিন্তু গত বছর খরচ বাড়লেও তেমন খরচ করতে পারেননি তারা। কারণ তাদের হাতে খরচ করার মতো টাকা ছিলো না। ধান ছিলো না। গত বছর এ মাস নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ না থাকলেও এ বছর এই মাস নিয়ে তাদের মাঝে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। ইবাদত বন্দেগি হচ্ছে মনের শান্তির ব্যাপার। মনে শান্তি থাকলে বন্দেগি করতেও ভালো লাগে। কৃষকরা ছিলেন চরম দুশ্চিন্তায়। এই দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে রোজা পালন করতে হয়েছে। চারদিকে হাহাকার আর উৎকণ্ঠার মাঝে পার করতে হয়েছে গত বছরের রোজার এ পবিত্র মাসটি। এ বছর অনেক ভালো সময় কাটানোর প্রত্যাশা কৃষকের মনে।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বেতকোনা গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ‘গতবারের তুলনায় ইবার আমরা খুব চিন্তা মুক্ত। ধান ফানির তলে যাওয়ার পরে যে সময় রোজা মাস আইলো কিতা করতাম তা নিয়া ভাবতে থাকতাম। ইবার ফসল ফাইছি। আশা খরেরাম আল্লায় ভালা চালাইবা।’
জয়কলস ইউনিয়নের পার্বতিপুর গ্রামের দেখার হাওরের কৃষক জমির মিয়া বলেন, ‘গত বার থকি তো ইবার কতো ভালা রোজা কাটাইমু। ইবার আর অতো চিন্তা করেরাম না। আল্লায় ভালা চালাইবা আশা করেরাম।
পশ্চিম পাগলার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গত বছর থেকে এ বছর আশা করি ভালোই কাটবো। এ বছর ধান বেশি পেয়েছি। ভালোই থাকবো। রোজাও শান্তিতে রাখতে পারবো।


