বিশেষ প্রতিনিধি
বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবে যাবার ঘটনার পর কৃষকদের শান্তনা দিতে ও হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করতে শনিবার দিরাইয়ে এসছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। এসময় তাঁকে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কথা জানালেন দিরাইয়ের ফসলহারা কৃষকগণ। মন্ত্রী হাওরের বৈশাখী বাঁধে গেলে স্থানীয় তাড়ল গ্রামের নূরে আলম নুরু নামের এক কৃষক অভিযোগ জানিয়ে বললেন, জমি যার পিআইসি তাঁর হবার কথা থাকলেও যার জমি সে পিআইসি’র সদস্য হতে পারে নি। বাঁধে দুর্মুজ হয় নি। উচ্চতাও কম হয়েছে। এই কারণে হাজার হাজার কৃষকের ফসল ডুবেছে। যারা বাঁধের কাজ করিয়েছে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তার ঘনিষ্টজন, একথাও মন্ত্রীকে বলেন ওই কৃষক।
ক্ষুব্ধ কৃষকদের এসময় শান্ত্বনা জানিয়ে ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ধরণের অভিযোগ আরও অনেকেই জানিয়েছেন, কৃষকরা বলেছেন, কোন বছরেই বাঁধের কাজ ভালো হয় না। অনেক বছরই বন্যা হয় না, তাই আল্লাহ্তালার অশেষ দোয়ায় ফসল রক্ষা হয়। এবছর আগাম বন্যা হয়েছে, এজন্য ফসল ডুবেছে।
মন্ত্রী কৃষকদের শান্ত্বনা দেবার সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা বলতে থাকেন, এক ব্যক্তি চার পিআইসি নামে বেনামে নিয়েছে।
মন্ত্রী কৃষকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনার পর, কৃষকরা স্লুইসগেট এবং আরেকটি বাঁধ নির্মাণের দাবি জানালে, এগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে করিয়ে দেবার আশ^াস দেন তিনি।
পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, এক ছটাক জমি নাই তাকেও পিআইসির কমিটিতে রাখা হয়েছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনেক অনিয়ম আছে, এসব প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো। মন্ত্রী বলেন, ধান নষ্ট হলে চালের দাম বাড়বে, খাদ্যমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট জবাব দিতে হবে কী কারণে ধান নষ্ট হলো। মানুষের কষ্ট বাড়বে। চতুর্দিক থেকে তিরস্কার আসবে। কেউ খেঁাজ নেবেন না কেন ধান নষ্ট হলো।
মন্ত্রী বলেন, হাওরের বোরো ধানকে ঝুঁকিমূক্ত রাখার জন্য ৭০ ভাগ ভতুর্কি দিয়ে হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবদরদি নেত্রী, তিনি বেঁচে থাকতে কেউ না খেয়ে থাকবে না। দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই। হাহাকার নেই। প্রকৃতির অভিসাপে কেউ ক্ষুধার কষ্ট করবে না।
কৃষক নূরে আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঁচ ফুট পানি আসলেও বৈশাখীর বাঁধ ভাঙার কথা নয়। অথচ পানি ছিল ৫ ফুটের নীচে। বাঁধের মাটির চাকাও ভাঙ্গেনি। হাওরের ১৫, ১৬, ১৭ ও ৮২ নম্বর পিআইসি বিভিন্ন নামে এনেছেন এক ব্যক্তি। পিআইসি বণ্টন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তার ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়। পিআইসির লোকজন বাঁধের উচ্চতাও কম দিয়েছে। দুর্বল বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবেছে। হাওরে আমার পরিবারের ২৫০ একর জমি আছে। আমরা কষ্ট পেয়েছি। এজন্য অভিযোগ জানিয়েছি।
এই বিষয়ে জানার জন্য প্রদীপ রায়কে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায় নি। প্রদীপ রায়ের ছোট ভাই দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ^জিৎ রায় জানালেন, দলীয় বিভেদের কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নূরে আলম চৌধুরী এই অভিযোগ জানিয়েছেন।
ড. জয়া সেন গুপ্তা এ প্রতিবেদককে জানালেন, মন্ত্রী তাকে ফোনে কৃষকের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। জয়া সেন বললেন, বাঁধে দুর্নীতি হয়ে থাকলে দিরাইবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যজনক। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টরা ভেবেছিলেন, এই সময়ে বন্যা হবে না, কিন্তু এবছর বন্যা তাড়াতাড়ি এসেছে, হাওরের বাঁধে কিছু কাজও বাকি ছিল, সকলে মিলে অনেক বাঁধ রক্ষা করেছেন, প্রথম ধাক্কায় চাপতির হাওরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এটি রক্ষা করা যায় নি। এই বাঁধ ভাঙায় আমরা সকলেই কষ্ট পেয়েছি।
গত পাঁচ এপ্রিল বাঁধ ভেঙে দিরাইয়ের চাপতির হাওরের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসল ডুবে যায় ।
- মতবিনিময় অনুষ্ঠানে থাকলেন না ব্যারিস্টার ইমন
- বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলব-কৃষিমন্ত্রী


