কেন্দ্রে রূঢ় আচরণ বিশ্বম্ভরপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বটে! কেন্দ্রের ৩৫২ জন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী-ই আতঙ্কিত, ভীত সন্ত্রস্ত। ঐ কর্মকর্তার ধমক খেয়ে এক শিক্ষার্থী ভয়ে ঘুমেও ‘স্যার স্যার’ বলে ওঠছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লিমন নামের ঐ তীব্র আতঙ্কের শিকার শিক্ষার্থীকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। পরে ডাক্তাররা বলেছেন, ‘তাঁর কোন অসুস্থতা নেই, ভয় পেয়েছে, সাহস দিলেই ঠিক হয়ে যাবে’। বুধবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা অবশ্য ঐ কর্মকর্তাকে কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তার নাম আব্দুর রহমান। তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও একাধিক অভিভাবক জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারকলা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম দিন থেকেই তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ আচরণ শুরু করেন।
কথা বললেই ধমক, খাতা টেনে নেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে ওঠে পুরো পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার পরীক্ষা চলকালীন সময়ে কথা বলায় গিয়াস উদ্দিন নামের এক পরীক্ষার্থীর পেপার ১০ মিনিট নিয়ে আটকে রাখেন তিনি।
শক্তিয়ারকলা কেন্দ্রের হল সুপার ফারুক উদ্দিন তালুকদার এসব বিষয় মঙ্গলবার উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা অনুকুল চন্দ্র দাসকে জানান।
অনুকুল চন্দ্র দাস অভিযোগ পেয়ে কেন্দ্র পরিদর্শন করে এসে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানাকে জানান।
বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা ঐ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। বিকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে ঐ কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করার চিঠি পাঠান তিনি।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন,‘দায়িত্ব পালন করলেই যত সমস্যা। দায়িত্ব নিয়ে ঘরে বসে থাকলেই কোন সমস্যা নেই। আমি ইউএনও ম্যাডামকে বলেছিলাম আমাকে প্রত্যাহার করে নেন। এখন (বুধবার বিকাল ৫ টা) প্রত্যাহারের চিঠি পেয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা বলেন,‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে যেহেতু সমস্যা হচ্ছে, কাজ আদায় করার স্বার্থে (সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেবার জন্য) তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’