স্টাফ রিপোর্টার
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং ও ভর্তি বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাথে কথা বলবেন তদন্ত কর্মকর্তা জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারি কমিশনার)।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলা শিক্ষক নিখিল দেবনাথ, ইংরেজি শিক্ষক অতেন্দ্র সরকার ও সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক মো. আমিনুল ৪ইসলাম ও হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক ওবায়দুল কিবরিয়া।
শিক্ষার্থী অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ পেয়ে ভর্তি বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকায় ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রশাসন। সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও আইসিটি শাখা থেকে দুটি স্কুলের পাঁচ শিক্ষককে তদন্তের চিঠি পৌঁছানো হয়েছে।
দুই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের তদন্তের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অন্যান্য কোচিং ও বাণিজ্যবাজ শিক্ষকরা আতংকে রয়েছেন।
শহরের নতুনপাড়া ও হাছননগরের একাধিক অভিভাবক শিক্ষার্থী জানান, পাঁচজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে; এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনেক শিক্ষক এখন কোচিং পড়াতে চাচ্ছেন না। সরকারি জুবিলী ও সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ভর্তি কোচিং-এর জন্য টাকা নিলেও এখন ভয়ে পড়াচ্ছেন না।
নতুনপাড়ার বাসিন্দা এক ছাত্র অভিভাবক বলেন,‘গত কয়েকদিন হলো সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আমার ছেলে এক স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ছে। আজ দুপুরে প্রাইভেট পড়তে গেলে স্যার বলেছেন আগামী কয়েকদিন পড়াবেন না। এতে ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। স্যারের বেতন প্রাইভেট পড়ার শুরুতে দেওয়া হয়েছে।’
উকিলপাড়ার এক ছাত্রী অভিভাবক জানান, এই বছর শিক্ষকরা কোচিং-এর রেট করেছেন সর্বনি¤œ ২ হাজার টাকা। যাদের টাকা আছে; কেবল তারাই পড়াচ্ছেন। সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী বলেন,‘আমাদের দুইজন শিক্ষককে ভর্তি বাণিজ্যের বিষয়ে তদন্তের জন্য চিঠি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আমাকে পত্র দিয়ে অবগত করা হয়েছে। ’
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক মোল্লা বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষককে ভর্তি বাণিজ্য বিষয়ে তদন্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসন চিঠি দিয়েছে। তদন্তের বিষয়টি আমাকেও অবগত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন যেহেতু আমদের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছে; আমরা সহযোগিতা করব।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) মো. শফিউল আলম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ দুটি বিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে আমরা শিক্ষকদেরকে চিঠি দিয়েছি। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আগামী সপ্তাহে তদন্ত করবেন। তদন্তে অন্য শিক্ষকের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে। ’
তিনি আরও বলেন,‘ কোচিং ও ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধ রোধে সবাইকে সহযেগিতা করতে হবে। যে কেউ নির্ভয়ে আমাদের কাছে এসব তথ্য দিলে আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব।’
- হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেউ পিআইসিতে থাকতে পারবেন না
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা


