কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা

এস ডি সুব্রত
‘এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে
আমার এ ঘরে থাকো আলো করে … ।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মী পূজা। লক্ষ্মী দেবী প্রধানত ধন সম্পদের দেবী হিসেবে পূজিত হন। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে এই পূজা হয়ে থাকে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন মঠ, মন্দির ছাড়াও হিন্দু পরিবারের প্রতিটি ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হবে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই দেবী লক্ষ্মীর পুজো হয়ে থাকে। লক্ষ্মী হলেন ধন সম্পত্তির দেবী। ধন সম্পদের আশায় ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা হয়ে থাকে। এ পূজা কোজাগরী লক্ষীপূজা নামেও পরিচিত।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষী ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে পূজা গ্রহণ করতে আসেন। লক্ষী দেবী সন্তুষ্ট থাকলে সংসারে অর্থকষ্ট থাকবে না ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে। লক্ষীদেবী দ্বিভুজা ও তার বাহন পেঁচা এবং হাতে থাকে শস্যের ভান্ডার। তবে বাংলার বাইরে লক্ষীর চতুর্ভূজা কমলে-কামিনী মূর্তিই বেশি দেখা যায়। প্রায় প্রাতটি বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে লক্ষীপূজা করা হয়। এ উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করেন। কোজাগরী শব্দটির উৎপত্তি ‘কো জাগতী’ থেকে। এর আক্ষরিক অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ কথিত আছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকলকে আশীর্বাদ দেন। কিন্তু যার বাড়ির দরজা বন্ধ থাকে, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মী প্রবেশ করেন না ও সেখান থেকে ফিরে চলে যান। তাই লক্ষ্মী পুজোর রাতে জেগে থাকার রীতি প্রচলিত আছে। সারারাত জেগে লক্ষ্মী আরাধনাই এই পুজোর বিশেষত্ব। আবার প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, শরৎ পূর্ণিমার রাতে যে জেগে অক্ষক্রীড়া অর্থাৎ পাশা খেলেন, লক্ষ্মী তাঁকে ধনসম্পদ দান করেন। আবার কেউ কেউ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন অন্যের বাগান থেকে ফল বা শস্য চুরি করে থাকে। ধারণা, এর ফলে লক্ষ্মী তাঁদের আশীর্বাদ দেবেন। প্রচলিত আছে,
“নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ জাগরত্তীতিভাষিণী।
তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ।।”
সুখ সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক বাংলার প্রতিটি ঘর । সাম্প্রদায়িকতা , ধর্মান্ধতা আর হিংসা বিদ্বেষ এর বেড়াজাল ছিন্ন করে মানবতাবোধ আর বিবেকবোধের জয় হোক ।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক