কয়লা আমদানী রপ্তানী বন্ধ ২৫ হাজার শ্রমিক বেকার

বিন্দু তালুকদার
জেলার তিনটি শুল্কস্টেশন তাহিরপুরের চারাগাঁও, বড়ছড়া ও বাগলী দিয়ে কয়লা আমদানী বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অন্তত ২৫ হাজার শ্রমিক। গত ৬-৭ মাস ধরে কয়লা আমদানী বন্ধ হয়ে পড়ায় কিভাবে আগামী ঈদ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত এসব শ্রমিক পরিবার।
রমজান মাসে ইফতার সমাগ্রী ও ঈদ উপলক্ষে এসব কয়লা শ্রমিকদের সরকারি সহায়তা (ভিজিএফ) এর চাল দেয়া হবে কি না তাও জানেন না শ্রমিকরা। কয়লা আমদানী রপ্তানী বন্ধ থাকায় সীমান্ত এলাকার হাজারো শ্রমিক পরিবার হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকায় কোন কাজ না থাকায় ২০-২৫ হাজার শ্রমিক বেকার দিন কাটাচ্ছেন। অভাবী শ্রমিক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করার উদ্যোগ নেই সরকারের। আগামী ঈদ উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে সকল এলাকায় ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও বেকার শ্রমিকদের জন্য কোন সহায়তা করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়নি। এমনকি কয়লা আমদানীকারক সমিতির পক্ষ থেকেও শ্রমিকদের কোন সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
চারাগাঁও শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সদস্য চারাগাঁও গ্রামের শ্রমিক শফিকুল ইসলাম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘কয়লার সব কাম বন্ধ, বড় বিপদে আছি ভাই। এইবার ধানও ভালা হয় নাই। বরডারের মানুষ কিতা দিয়া ইবার ঈদ করব। সবতা মিলাইয়া আমরা মনে অয় ঈদ করতাম পারতাম না।’
বুরুঙ্গাছড়া গ্রামের বাসিন্দা বড়ছড়া কয়লা আমদানী রপ্তানী শ্রমিক সর্দার কাউছার আহমদ বলেন,‘ কয়লা আমদানী রপ্তানী ২ বছর আগে বন্ধ ছিল। পরে ৩ মাস চলছিল বর্তমানে ৬-৭ মাস ধরে আবারো বন্ধ আছে। কোন কাম-কাজ নাই, এলাকা অচল হয়ে আছে। শ্রমিকরা একবেলা খাইলে দুই বেলা খাইতে পারে না। কি যে কষ্টে আছি আমরা তা কেউ জানে না। কেউ কোন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন না।  ’
বাগলী শ্রমিক সমবায় সমিতির সদস্য বাগলী গ্রামের শ্রমিক মোস্তফা মিয়া বলেন,‘কয়লার কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা খুব দুঃখ কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছে। মরা পাথর ও কয়লা কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবন যাপন করছে। কয়লা ছাড়া এলাকার আর কোন কাজ-কর্মও নেই করার। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয়নি। ঈদে কোন সাহায্য করা হবে বলেও আমরা জানি না।
স্থানীয় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খান বলেন,‘কয়লার কাজ বন্ধ থাকায় এলাকার প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক বেকার। কাজ না থাকায় কোন উপার্জন নেই তাদের। কাজের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে তারা। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ১৭০০ ভিজিএফ কার্ড রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে আমরা দরিদ্র শ্রমিক পরিবারগুলোকে ভিজিএফের চাল দেব।’