কয়েকটি প্রকল্পে কাজ নেই, লোকজনও নেই

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জেলার অন্যতম হাওর জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওর এখনও অরক্ষিত হয়ে রয়েছে। প্রায় দুইমাস অতিবাহিত হলেও এখনও কয়েকটি বাঁধে মাটি পড়েনি। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।
বুধবার নলুয়া হাওর ঘুরে দেখা যায়, নলুয়ার হাওরের পোল্ডার- ১১ ও ১২ নম্বর প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু হয়নি। দুইটি প্রকল্পই নলুয়া হাওরের ফসলরক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বাঁধের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কামারখালি নদী। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধে প্রচ- চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও ৭, ৮ ও ৯ নং প্রকল্পের কাজ বন্ধ পাওয়া যায়। সরেজমিনে পরিদর্শন কালে কোনো লোকও দেখা যায়নি। ৮ ও ৯ নং প্রকল্পে এখনও মাটির কাজ শেষ হয়নি। অনেকাংশে মাটি পড়েনি। এরমধ্যে হাওরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হচ্ছে ৮ নং প্রকল্পের হালেয়া সংলগ্ন এলাকা। এই স্থানে একটি গভীর স্থান রয়েছে। এখানে সঠিকভাবে কাজ না হলেও পুরো হাওরের ফসল ঝুঁকির মুখে থাকে বলে স্থানীয় কৃষক শফিক মিয়া জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালে ওই স্থানের বাঁধ ভেঙে নলুয়ার হাওরের ফসলডুবির ঘটনা ঘটেছিল। ১০ নং প্রকল্পের অধিকাংশ স্থানে মাটি ভরাটের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় মাটির কাজ চলমান দেখা গেছে। এই প্রকল্পের সভাপতি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ই্উপি সদস্য সুজাত মিয়া জানান, বড় সমস্য মাটির। বাঁধ এলাকায় সরকারি মাটি নেই। রয়েছে মালিকানা জমি। কেউ মাটি দিতে চান না। অনেক চেষ্টা করেও এখনও নিজের পরিচিতদের জমি থেকে মাটি তুলে বাঁধের কাজ করছি।
৮ নং প্রকল্পের সভাপতি কয়েছ মিয়া বলেন, ৭০ শতাংশ মাটির কাজ শেষ হয়েছে। কিছু স্থানে মাটি ফেলা হয়নি । বাঁশ ও মাটির বস্তা এখনও দেয়া হয়নি। এজন্য ঝুঁর্কিপূর্ণ স্থানে কাজ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে বলেছি।
১১ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি আব্দুস শহিদ জানান, হাওরে পানি থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে এক দুইদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
১২ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি মফিজ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার ৪৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে ৪২.৩১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হয়। এই কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তিনকোটি টাকা। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়। প্রায় আগামী ২৮ র্ফেরুয়ারী বাঁধের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, ৪৫টি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে আমরা মাঠে কাজ করছি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই মাস পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনও হাওরের অনেক প্রকল্পের মাটি পড়েনি। যে কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। নীতিমালা অনুয়ায়ী হাওরের বাঁধের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তিনি দাবি জানিয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজে আমরা কোনো ধরনে গাফিলতি আর অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছে প্রকল্পের সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্যদের।