স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বৃহৎ খরচার হাওরে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে নি¤œাঞ্চলের ১৫শত একর বোর জমির ধান তলিয়ে গেছে, আরো ব্যাপক পরিমাণ জমি তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। খরচার হাওরে জলাবদ্ধতার পানি সেচের মাধ্যমে অপসারণ এবং বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের পানি বিভিন্ন খাল ও নালা দিয়ে প্রবেশ করে খরচার হাওরে কৃষকের বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১৫০০ একর জমি তলিয়ে গেছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি পানিতে
তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ আরো বেশী হবে। নি¤œাঞ্চলে জমির উপর পানিতে বাতাসে ঢেউ খেলছে। হাওর পার্শ্ববর্তী নদীগুলো পাহাড়ী ঢলের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন ফসল রক্ষার বাঁধগুলো সঠিকভাবে নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিটি বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নির্মাণ করা বাঁধগুলোর কাজে শুরু থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল। তাছাড়া ঘাগটিয়া রাবার ড্যাম পরিচালনাতেও অনিয়ম-গাফিলতি ছিল বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানান।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সদরে এলাকার কৃষকের উদ্যোগে খরচার হাওরের জলবদ্ধতার দূরিকরণে পানি অপসারণ ও ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ করতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বক্তব্য রাখেন পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম, ফতেপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগ নেতা নুরুল আলম ছিদ্দিকী, সংবাদকর্মী হাসান বশির প্রমুখ।
শুক্রবার বিকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খরচার হাওরের বিভিন্ন বাঁধ ও জলবদ্ধাতার পানি পরিদর্শন করেন। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন হরিমনের ভাঙ্গা বাঁধ ও ঠিকাদার পার্থ সারথী পুরকায়স্থের কাজ অনিয়ম দেখে ক্ষোভ ও অসন্তুষ প্রকাশ করেন বলেন,‘হরিমনের ভাঙ্গায় অনেক জায়গায় মাটি ফেলা হয়নি। বাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া দায়সারাভাবে কিছু মাটি কাটা হয়েছে। তবে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে আরো সর্বনাশ করা হয়েছে। হাওরের ফসল রক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উবর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
- জগন্নাথপুরে হাওর রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা
- বাঁধের নীচ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে- শনির হাওরে ৩টি বাঁধ হুমকির মুখে


