এনামুল হক, ধর্মপাশা
মধ্যনগর উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির জনতা বাজারের ডিলার মো. শাহ আলম নীতিামলা লঙ্ঘন করে চাল বিক্রি করার পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত উপভোগীদের ২৭ মণ চাল আত্মসাত করেছেন। এ জন্য তিনি খাদ্যগুদাম থেকে চাল ওজনে দেওয়ার অভিযোগসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দোহাই দিয়েছেন। অন্যদিকে একই কর্মসূচির মধ্যনগর বাজারের ডিলার ওবায়দুল ইসলাম খান রনিও ওই সময়ে ৩১ মণ চাল আত্মসাত করেছেন।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। এ জন্য চামরদানি ইউনিয়নের জনতা বাজারে শাহ আলম নামের একজনকে ডিলার নিযুক্ত করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী জনতা বাজারেই শাহ আলম চাল বিক্রি করার কথা রয়েছে। কিন্তু শাহ আলম নীতিমালার তোয়াক্কা না করে জনতা বাজার থেকে ৬/৭ কিলোমিটার দূরে নিজের সুবিধার্থে মধ্যনগর বাজারে ৪২৩ জন উপকারভোগীর কাছে চাল বিক্রি করে আসছেন। এতে করে উপভোগীরা চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয় প্রতি উপকারভোগীকে ১ কেজি করে চাল কম দিয়ে সেপ্টেম্বরে ৪২৩ কেজি, অক্টোবরে ৪২৩ কেজি ও নভেম্বর মাসে সোমবার পর্যন্ত ২৪১ কেজিসহ মোট ২৭ মণ চাল ওজনে কম দিয়ে আত্মসাত করেছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মধ্যনগর বাজারে শাহ আলমের দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শাহ আলমের লোকজন প্রতি উপকারভোগীকে ২৯ কেজি চাল দিচ্ছেন। এ সময় কয়েকজন উপকারভোগীর চাল ওজন নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। তখন শাহ আলম এগিয়ে এসে বলেন, ‘ইউএনও স্যার বলে দিয়েছেন ২৯ কেজি করে দেওয়ার জন্য। সব ডিলারই এভাবেই দিচ্ছে। আর খাদ্যগুদাম থেকেই ওজনে চাল কম দেওয়া হয়।’
খাদ্যগুদাম থেকে চাল কম দেওয়ার বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে শাহ আলম কয়েকটি বস্তা পরিমাপ করেন। তখন দেখা যায় শাহ আলমের পরিমাপকৃত প্রতি বস্তায় ৫০ কেজির ওপরে চাল রয়েছে।
অপরদিকে মধ্যনগর বাজারের ডিলার ওবায়দুল ইসলাম খান রনির দোকানে গিয়ে দেখা যায় তার নিযুক্ত লোকজন উপকারভোগীদের ২৯ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। চাল বিক্রির কাজে নিযুক্ত অরুণ কান্তি সরকার নামের একজন জানান, ডিলারের নির্দেশেই ১ কেজি করে চাল কম দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনিও গুদাম থেকে আনা ৫০ কেজি ওজনের চালের বস্তা পরিমাপ করে দেখান। কিন্তু পরিমাপকৃত প্রতিটি বস্তাতেই ৫০ কেজির ওপরে চাল পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট ডিলার ওবায়দুল ইসলাম খান রনি মুঠোফোনে বলেন, ‘খাদ্যগুদাম থেকেই চাল ওজনে কম দেওয়া হয়। ত্রিশ কেজি করে চাল দিলে আমাদের ঘাটতি থাকে।’
মধ্যনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবিনাশ দাস বলেন, ‘ওজনে কম দেওয়া হয়না। ওরা (ডিলার) আমাদের দোহাই দেয়।’
ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি উপকারভোগীকে ৩০ কেজি করেই চাল দিতে হবে। কম দেওয়ার সুযোগ নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘সে (শাহ আলম) আমার দোহাই দিবে কেন? এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। কোনো ডিলার নীতিমালা পরিপন্থি কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


