খোঁজ নিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা

বিশেষ প্রতিনিধি
ফসল রক্ষার জন্য নির্মিত হাওররক্ষা বাঁধের কোন কোনটিতে অতিরিক্ত বিল এবং কোথাও কোথাও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ হয়েছে এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাপা হওয়ায় সরকারের দায়িত্বশীল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এই বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীলরা কোথায় কোথায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধ হয়েছে, কোন বাঁধে অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে, এসব বিষয় খোঁজ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে চতুর্থ দফা অর্থাৎ শেষ কিস্তির বিলের বিষয়টিও মনিটরিংয়ে রাখবেন গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীলরা।
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার বৃহৎ হাওরের ফসল রক্ষার জন্য ৭৪৫ টি প্রকল্প তৈরি করে বাস্তবায়নের জন্য ৭৪৫ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। প্রথমে হাওররক্ষা বাঁধের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দ হয় ১৩২ কোটি টাকা।
বাঁধ নির্মাণকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চলতি নদীর বামতীরের ১১ টি প্রকল্পসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং কোথাও কোথাও নির্মিত বাঁধে প্রয়োজনের
অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়ে কথা ওঠে। কিছু কিছু জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমেও এই নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাঁধ নির্মাণ নিয়ে এসব সমালোচনাকে আমলে নিয়েছেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সুনামগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা বললেন, অপ্রয়োজনীয় বাঁধের কারণে দফায় দফায় বন্যা হচ্ছে কী-না, কেন- কোথায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধ হয়, বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় হয় কী-না, এসব বিষয়ে আমাদের খোঁজ খবর নেবার জন্য বলা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে কিছু কিছু খোঁজ নিয়েছি, নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিবেদনও পাঠিয়েছি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সুনামগঞ্জের কার্যকরি সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণের বর্তমান নীতিমালাই জনবান্ধব-জনপ্রিয় নীতিমালা। এই নীতিমালায়ও দুর্নীতি হচ্ছে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু কাজও হচ্ছে। আগে কাজই হতো না, ঠিকাদার এবং পাউবো’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি করে নিতেন। দুর্নীতি ঠেকাতে হবে, প্রয়োজনে নীতিমালায় সংশোধনী আনা যেতে পারে। যারা দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাওরের কৃষি ও কৃষকরক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওরের ক্লোজার বা ভাঙনগুলোতে পর্যায়ক্রমে টেকসই রাবারড্যাম নির্মাণ করে দিতে হবে। নদী ও খালের মাটি তুলে আফর বাঁধগুলোকে স্থায়ী বাঁধে রূপ দিতে হবে। তাহলেই বছরে বছরে প্রকল্পের নামে শতকোটি টাকা লোপাটের সুযোগ থাকবে না।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, হাওররক্ষা বাঁধের প্রকল্প তৈরি করে উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি, প্রাক্কলনও তারাই তৈরি করে। জেলা কমিটি কেবল অনুমোদন দেয়। এবার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হয়েছে বলে জানা নেই আমার। সুনামগঞ্জ সদরে চলতি নদীর বামতীরের ১১ টি প্রকল্প নিয়ে কথা ওঠেছিল, এই ১১ টি প্রকল্পের ৫ টি বাতিল করা হয়েছে। ৬ টিতে ব্যয় সংকোচন করা হয়। হাওররক্ষা বাঁধের জন্য ১৩২ কোটি বরাদ্দ হলেও বিল কমিয়ে আনা হয়েছে। তিন দফায় ৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা পিআইসিদের পরিশোধ করা হয়েছে। বাকী আছে ২০ কোটি টাকা। এই টাকা ছাড় করার জন্য মন্ত্রণালয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।