আকরাম উদ্দিন
শহর এলাকায় খেয়াঘাট এবং বাজারে সাইনবোর্ড না থাকায় অতিরিক্ত টোল আদায় করে আসছেন ইজারাদার। এতে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এই সমস্যা নিরসনে সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের।
ভুক্তভোগী একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সারা বছর সুরমার উত্তরপাড়ের সবজি শহরের বাজারে নিয়ে আসেন তাঁরা। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে বসে সবজি বেচাকেনার সুযোগ নেই। যেখানে ফাঁকা জায়গা সেখানেই মালামাল নিয়ে বসতে হয়। টোল দেয়ার কিছুক্ষণ পর যে কেউ তোলে দেন তাদের। পরে যখন অন্য জায়গায় যান তখনও দিতে হয় নতুনভাবে টোল। সাইনবোর্ড না থাকায় ব্যবসায়ীরা জানতে পারছেন না কোন মালে কিভাবে দিতে হবে কত টাকা টোল। খেয়া নৌকা পার হতেও দিতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। এভাবে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন নদীর উত্তরপাড়ের হাজারো মানুষ।
ইব্রাহীমপুর গ্রামের সাজাউর রহমান বলেন, স্থানীয় মানুষ পারাপারে বন্ধানী নীতিমালা আছে। এখন এই বন্ধানী নীতিমালা কেউ খুঁজেন না। বন্ধানীর কথা বলে কেউ ঝামেলা বাড়াতে চান না।
পশ্চিম সদরগড় গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি সামাদ মিয়া বলেন, আমার এক চাচা সারা বছরের জন্য বন্ধানী হিসাবে ৫ টাকা দিতেন। পরিবারের সকল শহরে আসা যাওয়া করতে পারতো। তিনি বলেন, বিগত পৌর চেয়ারম্যানের আমলেও বন্ধানী নীতিমালা ছিল। ৩ মাসে ৭৫ টাকা, ৬ মাসে ১৫০ টাকা, ১ বছরের জন্য ২৫০ টাকা প্রতিজনে দেয়ার নীতিমালা ছিল। আইন কিন্তু বাতিল হয় না। বন্ধানীর হার কম বেশি হতে পারে।
নদীর উত্তরপাড়ের সৈয়দপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, খেয়া নৌকায় আমাদের কোনো মাফ নেই। ভাড়া দিতেই হবে। ইজ্জতের ভয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয় আমাদের। প্রতিঘাটে খেয়া নৌকা থাকতে হয় দুইটি করে। এখন শুধু একটি নৌকায় পারাপার হতে হয়। ইজারাদারের ইঙ্গিতে খেয়া নৌকার মাঝি দেরিতে যাত্রী পারাপার করে। এসব সমস্যা সমাধানে খেয়াঘাটে সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি আমাদের।
শিক্ষক হারুন রশিদ জানান, তিনি প্রতিদিন একটি সুন্দর মন নিয়ে ঘর থেকে বের হন। কিন্তু খেয়া নৌকায় উঠলে যখন অতিরিক্ত ভাড়া চায়, তখন মনটা খারাপ হয়। তাদের মতো আচরণ করতে পারি না, মনে দু:খ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আসতে হয় শহরে। এটার সমাধান জরুরি প্রয়োজন।
নদীর উত্তরপাড়ের আমিরপুরের ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান বলেন, দুই টুকরি সবজি নিয়ে শহরে আসলে খেয়া নৌকায় দিতে হয় ৪০ টাকা। আমি সবজি কিনে এনে শহরের বাজারে বিক্রি করি। শহরেও বসার জায়গা না পেয়ে কারো বন্ধ দোকানের সামনে দোকান পেতে বসি। টোল দিতে হয় অতিরিক্ত। এতে আমার অর্ধেক লাভ খেয়া নৌকায় ও বাজারে শেষ। এখন শহরে না এসে গায়ে গায়ে ফেরি দিয়ে বিক্রি করি সবজি। নির্দিষ্ট টোল আদায়ের সাইনবোর্ড স্থাপন হলে শহরে এসে সবজি বিক্রি করতে সুবিধা হবে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ বলেন, আমরা ইজারা দেয়ার সময় বলে দেই, তারা যেন দৃশ্যমান স্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। আমাদের চাপের মুখে যদিও সাইনবোর্ড স্থাপন করেন, পরে আর এটা থাকে না। ইজারাদারদের আবারও বলে দেয়া হবে লকডাউন শেষ হলেই দৃশ্যমান স্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন করার জন্য। আমরা এবার কঠোরভাবে অতিরিক্ত যাত্রী ভাড়া ও টোল আদায়ের বিষয়টি নজরদারি করবো।
- প্রথিতযশা সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের জন্মদিন আজ
- জেলা যুবলীগের উদ্যোগে তিনশতাধিক মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ


