গচিয়া গ্রামে মা-বাবার পাশেই শায়িত

আবু হানিফ, দিরাই
মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া গ্রামে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী (সালেহ চৌধুরী’র ইচ্ছা অনুযায়ী) পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে গচিয়া সামছুদ্দিন- সিকান্দর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীকে।
পরে প্রয়াতের মরদেহ পুস্প অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা’র পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাব উদ্দিন সর্দার ও অ্যাড. সোহেল আহমদসহ দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এরপর একে এক শ্রদ্ধা জানান- সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, এছাড়া সতীর্থ মুক্তিযোদ্ধা দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক, মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক বজলুল মজিদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ানসহ মুক্তিযোদ্ধাগণ, উপজেলা প্রশাসন, দিরাই পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান।
গত শুক্রবার রাতে রাজধানী’র একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন প্রখ্যাত সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় গ্রামের বাড়ি দিরাইয়ের গচিয়ায় এসে পৌঁছায় তাঁর মরদেহ। এসময় এলাকার হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার গচিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৩৬ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন সালেহ চৌধুরী। তার বাবা আজমান রাজা চৌধুরী (রাজা মিয়া) সেই এলাকার জমিদার ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ৩ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সালেহ চৌধুরী ১৯৬৩ সালে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে এমএ পাস করেন। তিনি  অর্ধÑসাপ্তাহিক ‘সোনার বাংলা’ ও গভর্ণর মোনায়েম খানের ‘পয়গাম’ পত্রিকায় কাজ করেছেন।
দৈনিক ‘আওয়াজ’Ñএ কাজ করেছেন। সরকারি মালিকানাধীন ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকায় এবং স্বাধীনতার পর বন্ধ হবার পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক বাংলায় সহকারী সম্পাদক ও ফিচার এডিটর হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর লেখা সর্বশেষ বই ‘ভাটি এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ : আমার অহংকার’।
১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি টেকেরঘাট সাব সেক্টরের আওতায় ভাটি এলাকার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হিসেবে দেশের ভিতরে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশহগ্রহণ করেছেন।