গজারিয়া নদীর তীর কেটে মাটি উত্তোলন

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে সরকারী খাস খতিয়ানের জায়গা গজারিয়া নদীর তীর কেটে মাটি উত্তোলন করায় অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাসব্যাপী ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের পাশে গজারিয়া নদীর তীরে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে একাধিক স্থানে খনতা খনন করে এই মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। গজারিয়া নদীর তীর কেটে মাটি উত্তোলন করায় পার্শ্ববতীর্ সেতু ও ফসলি জমি নষ্টের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, লালপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া গজারিয়া নদীর তীরে নিজের জায়গা দাবি করে মাটি উত্তোলন করে আসছেন। প্রতিদিন ট্রাক ও ট্রলি বোঝাই করে এই মাটি তুলে নিজের জায়গা ভরাট করছেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন ।
স্থানীয়রা জানান, মাসব্যাপী লালপুর গ্রামের পাশে গজারিয়া নদীর তীর কেটে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। রতনশ্রী মৌজার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পৈন্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার জামাল হোসেন একাধিকবার সরেজমিন পরিদর্শন করে নিরব ভূমিকায় রয়েছেন। তবে তিনি স্থানীয়দের বলেছেন উর্ধতন কতৃর্পক্ষের নির্দেশে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।
পৈন্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার জামাল হোসেন বলেন, পৈন্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অন্তর্ভুক্ত রতনশ্রী মৌজা। এই মৌজায় আছে লালপুর গ্রামের পাশে গজারিয়া নদী। গজারিয়া নদীর তীরে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি ওই জায়গায় মাটি উত্তোলনের বিষয়ে পরিদর্শনে যাইনি।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, গজারিয়া নদীর তীর থেকে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে তহশীল অফিসের লোকজন এসে দেখে গেছেন। পরে আরও বেশি করে তীর কেটে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।
লালপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত ব্যক্তি ফারুক মিয়া বলেন, আমি এস.এ রেকর্ডভুক্ত আমার জায়গা থেকে মাটি তুলছি। এখানে কোনো সরকারী খাস জায়গা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের জায়গা থাকলে জায়গা মাপ করে দেখবে সরকার। এখানে মাটি উত্তোলনে বাধা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। অফিস—আদালত ঠিক রেখে মাটি উত্তোলন করছি।
গৌরারং ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, গজারিয়া নদীর তীর থেকে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
জেলা পরিষদ সদস্য হোসেন মিয়া বলেন, গজারিয়া নদীর তীর থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, এটা ঠিক। তবে আমার জায়গার সামনে নয়। নইলে আমি বাধা দিতাম।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সুলতানা বলেন, গজারিয়া নদীর তীর থেকে মাটি উত্তোলন করার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।