এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
‘লোকটি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করলে বলে আমার নাম কবর। আমার বাড়ি কবর। আমি আর বাঁচতে চাই না। আমি কবরে যাইতে চাই। কবরই আমার ঠিকানা। আমারে এখানে রাইখ্যা গেছে। আমারে পেটে লাথি মাইরা মাইরালাও। আমারে কবরে পাঠাইয়া দাও। আমার বয়স সত্তর বছর।’
এ কথাগুলো বলছিলেন ধর্মপাশা উপজেলার কংশ সেতুর উত্তর পাশে সড়কের পূর্ব পাশে একটি গাছের নিচে শুয়ে থাকা নাম জানা না এক বৃদ্ধ। প্রায় ১৫ দিন যাবত ওই বৃদ্ধ এখানে শুয়ে আছেন। কে বা কারা তাঁকে এখানে রেখে গেছেন কেউ জানেনা। তাঁর শরীরের নিচের অংশ অলস। সে উঠে দাঁড়াতে পারেনা। ওই বৃদ্ধের বিষয়টি সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন কবীরকে বিষয়টি জানায়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ধর্মপাশা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়াকে খোঁজ নিতে বলেন। পরে পুলিশের সহায়তায় ওই বৃদ্ধকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ধর্মপাশা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন
কবীর দুপুর দুইটায় তাঁকে দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলেন।
ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা যোগেশ সরকার বলেন,‘লোকটি দুই সপ্তাহ ধরে সড়কের পূর্ব পাশে শুয়ে আছে। আমি নিজেই গরীব মানুষ। আমার সাধ্যমত তাঁকে খাবার দিয়েছি। কে বা কারা তাঁকে এখানে রেখে গেছে তা কেউ বলতে পারে না।’
ধর্মপাশা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন,‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে খবরটি আমি শুনেছি। খবরটি শুনার পর আমি পুলিশ পাঠিয়ে ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সামছুল আলম শাওন বলেন,‘ অসুস্থ এক বৃদ্ধকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তিনি মানসিক রোগী। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
ভারপ্রাপ্ত ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন কবীর বলেন,‘ সড়কের পাশে শুয়ে থাকা বৃদ্ধের বিষয়ে আমি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি। তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ধরনের মহৎ কাজে এগিয়ে আসায় আমি ধর্মপাশার গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।’


