গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

আকরাম উদ্দিন
গত তিন দিনের প্রচন্ড গরমে ‘হিট স্ট্রোক’ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। গ্রামগঞ্জের বয়স্করা, দিনমজুর শ্রেণীর মানুষেরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তবে এই রোগ থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ায় অথবা যেকোনো ঠান্ডা স্থানে অবস্থান করাসহ লেবু ও ফলের সরবত পান করার পরামর্শ দিয়েছেন একাধিক চিকিৎসক।
রবিবার বিভিন্ন স্থানে ‘হিট স্ট্রোক’ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। শহরতলী গ্রাম ইব্রাহীমপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুশ শহীদ দুপুর ১টায় নদীরপাড়ে প্রচন্ড গরমের অসহনীয় যন্ত্রণায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন তাঁর মাথায় ঠান্ডা পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরিয়ে আনেন। একই গ্রামের আরশ উদ্দিন নামের আরেক যুবক ওইদিন সন্ধ্যায় নদীরপাড়ে অজ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একইভাবে সেবা দিয়ে মানুষজন তাকেও সুস্থ করে তোলেন।
গত শনিবার সকাল থেকে জ্যৈষ্ঠের খরতাপ শুরু হয়েছে। দিনমজুরী মানুষেরা সংসার খরচ যোগান দিতে ঝুঁকি নিয়ে দৈনন্দিন পেশাগত কাজ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। রোদের অসহনীয় তেজস্ক্রিয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম নিতে হচ্ছে তাদের। গরম থেকে নিজেকে বাঁচাতে কেউ গাছের ঠান্ডা শীতল ছায়ায়, কেউ উঁচু পাকা ভবনের ছায়ায়, কেউ আবার ধমীয় প্রতিষ্ঠানে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। জ্যৈষ্ঠের খরতাপ শুরুতেই শহরে দিনমজুর শ্রেণী মানুষের আগমন অনেকটা কমে গেছে। সোমবারও শহরে লোকসমাগম কম ছিল।
শহরের আসা রতারগাঁওয়ের রিক্সা শ্রমিক আব্দুল হামিদ বলেন, প্রচন্ড এই গরমে রিক্সায় যাত্রী টানতে পারি না। পয়েন্টে পয়েন্টে দুই টিপ দিলেই হাঁপিয়ে উঠি। তখন বিশ্রাম নিতে হয় আরও ঘণ্টা। গরমের সময় রুজি কম হয় আমাদের।
আব্দুশ শহীদ বলেন, রবিবার দুপুরে গরমের অসহ্য যন্ত্রণায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীপাড়ে এসেছি ঠান্ডা শীতল বাতাসের আশায়। কিন্তু কোনো বাতাস নেই। তবুও বসেছি দোকানের ব্রেঞ্চিতে। হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাই। অজ্ঞান হওয়ার পর উপস্থিত লোকজন আমার মাথায় পানি ঢালেন। কিছুক্ষণ পর আমার জ্ঞান ফিরে আসে। আমি কয়েকবার ঠান্ডা সরবত পান করেছি। এখন আমি সুস্থ।
শহরের সরবত বিক্রেতা জসীম মিয়া বলেন, বরফ রাখা যায় না, গরমে গলে যায়। কাস্টমার নেই। সবাই বুঝে সরবত খাওয়া পর্যন্ত পেটের ভেতরে ঠান্ডা লাগে। কিছুক্ষণ পর আবারও সেই গরম।
সুরমা ইউপি আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, প্রচন্ড গরমে দিনমজুরী মানুষেরা তাদের দৈনন্দিন কাজে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। গরম তো গরমই, কারো কিছু করার নেই।
ওয়েজখালির বিশ্বজিৎ দেব বলেন, সকালে শহর আসতে রিক্সায় উঠেছি। যাত্রী নামিয়ে আমাকে তোলেছে। লাফ দিয়ে সিট থেকে নেমে যাই। রিক্সার সিট নিমিষেই এতো গরম হয়েছে ভাবতেই পারিনি।
মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রব বলেন, এখনও অনেক জমিতে ধান কাটা, মাড়াই করা, ঘরে তোলা প্রভৃতি কাজ রয়েছে। কিন্তু প্রচন্ড গরমের অসহ্য যন্ত্রণায় কৃষকেরা কাজ করছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে। দিনমজুরী মানুষেরা রোদের অসহনীয় তেজষ্ক্রিয়ায় মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আবার জ্যৈষ্ঠ মাসে ফল পরিপক্ক হতে এবং ধান শুকাতে এই গরম ও রোদের খুবই প্রয়োজন রয়েছে।
শহরের বাসিন্দা কৃষক নেতা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, এবার গরমের মাত্রা বেশি। তিনদিনের গরমে মানুষকে হাঁপিয়ে তোলেছে। আমি বাসা থেকে বের হচ্ছি না। বাসায় থেকেও অসহ্য গরম লাগছে। এই গরমে সবাই মিলি লেবুর সরবত পান করছি।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রচন্ড গরমে মানুষ ‘হিট স্ট্রোক’ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই জন্য আরামদায়ক জায়গা অবস্থান করা ভাল। লেবু ও ফলের সরবত পান করা খুবই উপকারী।