গরিবের ডাক্তার নুরুল ইসলাম

বিন্দু তালুকদার
ডা. নুরুল ইসলাম। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নাক, কান, গলা ও হেডনেক সার্জারীর প্রশিক্ষণে গ্রহণ করছেন। সম্প্রতি ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় সন্তানকে নিয়ে রিকশাযোগে বাজারে বেরিয়েছিলেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। শহরের ষোলঘর পয়েন্টে তাঁকে পেয়ে যান এলাকার ঢালাগাঁওয়ের বাসিন্দা সবজি বিক্রেতা রুহুল আমিন (৩০)। রুহুল আমিন নিজের পরিচয় ও সালাম দিয়ে ডা. নুরুলের কাছে নিজের অসুখের কথা জানান।
বিস্তারিত শুনে শিশু সন্তানকে রিকশায় বসিয়েই পাশের এক দোকান থেকে কাগজ-কলম চেয়ে নিয়ে সাথে সাথেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দিলেন। ব্যবস্থপত্রটি রুহুল আমিনের হাতে দিয়ে সান্তনার  সুরে বললেন এই ঔষধগুলো খান, আশা করি আপনি ভাল হয়ে যাবেন। আর যদি ভাল না হয় পরে আমাকে জানাবেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নুরুল ইসলামের সেবার বিষয়টি এই প্রতিবেদকের চোখে পড়ে। মোবাইল ফোনে একটা ছবি তোলার পর ষোলঘর পয়েন্টের ভাসমান সবজি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেল ডা. নুরুল ইসলামের ব্যতিক্রমী চিকিৎসা সেবার কাহিনী।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানালেন, ডা. নুরুল ইসলাম শুধু শহরেই নয় যেখানেই সুযোগ পান সেখানেই গরিব লোকদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর নিজের জন্মস্থান এলাকার সবাই বিষয়টি জানেন। তিনি ছুটির দিনে গ্রামে বিনা ফিতে রোগী দেখেন।
রাস্তায় চিকিৎসা সেবার দেয়ার ছবি তোলার পর কৌতুহল বশত ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আপলোড করার পর ডা. নুরুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী চিকিৎসা সেবার অনেক তথ্য জানা যায়। অনেকেই ফেইসবুকের পোস্টের নিচে মন্তব্য করেন, আবার অনেকেই ফোনে তার প্রশংসা করেন।
ডা. নুরুল ইসলামের জন্ম সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আব্দুল  গনি ও সালেহা বেগমের কৃতী সন্তান। ৮ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি ৬ষ্ঠ। সীমান্ত এলাকার নারায়নতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ঢাকার আইডিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা পাশ করেন। পরে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ২০১০ সালে তিনি বিসিএস পাশ করে সরকারিভাবে চিকিৎসক পদে নিয়োগ পান। পরে নর্দান ইউনির্ভাসিটি থেকে এমপিএইচ ডিগ্রি অর্জন করেন।