গলা কাটার ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধার কানের দুল ছিনতাই

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
৭০ বছর বয়সী রাশেদা বেগম খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড করতে ব্যাংকে এসেছিলেন। ব্যাংক থেকে বের হতেই একজন ইজিবাইক চালক এগিয়ে এলো। তারপর রাশেদা বেগমকে তার ইজিবাইকে ওঠার জন্য অনুরোধ জানালো। ইজিবাইকে আগে থেকেই একজন কিশোর ও একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি যাত্রী হিসেবে বসা ছিল। রাশেদা বেগম কোনো কিছু মনে না করেই ওই ইজিবাইকে উঠে বসেন। ইজিবাইক চলতে শুরু করলো। সবকিছুই ঠিকঠাক। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর ইজিবাইকে থাকা কিশোর ও মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি রাশেদাকে ভয় দেখাতে শুরু করে এবং রাশেদার কানে থাকা স্বর্ণের দুল খুলে দিতে বলে। রাশেদা চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর গলা ব্ল্যাড দিয়ে কেটে ফেলার হুমকি দেয়। এতে রাশেদা প্রচন্ড ভয় পেয়ে চুপ করে যায়। সেই সুযোগে ওই দুইজন রাশেদার মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং কানের দুল খোলে নেয়। ইজিবাইক সামনে এগিয়ে চলেছে। এক সময় ইজিবাইক থামিয়ে অন্য একটি ইজিবাইকে রাশেদাকে তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রাম সংলগ্ন ধর্মপাশা—মধ্যনগর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। রাশেদা সেলবরষ ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের মৃত শেখান্দর আলীর স্ত্রী।
ঘটনার পরপরই রাশেদা ছুটে যান ধর্মপাশা থানায়। পরে দুজন পুলিশ রাশেদাকে নিয়ে ইজিবাইকটি খোঁজে বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু ইজিবাইক আর খোঁজে পায়নি পুলিশ। এদিকে রাশেদা বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয় জহিরুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী রাশেদার ভিডিও ধারণ করে ধর্মপাশা হেল্পলাইনে পোস্ট করলে বিষয়টি সবার সামনে আসে। রাশেদা ওইদিন সকালে ধর্মপাশা সোনালী ব্যাংকে এসেছিলেন। গত ১৩ মার্চ সকালে ধর্মপাশা—মধ্যনগর সড়কের পাশে এক ইজিবাইক চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। রাশেদা জানায় তাকে ওই ইজিবাইক চালকের মতো মেরে ফেলার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা।
রাশেদার ছেলে ঝন্টু মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগে যেভাবে এই সড়কে একজন ইজিবাইক চালককে মেরে ফেলা হয়েছে সেভাবে আম্মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আম্মার কাছ থেকে কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি প্রতারণার ঘটনা। এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।’